মির্জাপুরে হাসপাতাল রোডে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানিতে জনদুর্ভোগ

0 35

মির্জাপুর প্রতিনিধি ঃ

 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। একটু বৃষ্টি হলেই পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে হাসপাতাল রোডের সম্পূর্ণ সড়কে হাটু পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে হাসপাতালে আসা ও ভর্তি থাকা রোগী এবং তাদের স্বজনদের পাশাপাশি চিকিৎসক নার্স মেডিকেল কলেজ ও ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীসহ স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জানা গেছে, আর্তমানবতার সেবায় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত এক হাজার ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে মির্জাপুর উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে। এছাড়া হাসপাতাল কমপ্লেক্সে রয়েছে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নাসিং স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষও লৌহজং নদী পার হয়ে কুমুদিনী হাসপাতাল রোড হয়ে উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে থাকে। আধা কিলোমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে যায়। এতে এই সড়কে চলাচলকারী রোগী ও তাদের স্বজনদের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, কুমদিনী নাসিং স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীসহ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন লুৎফর রহমান ও সাইদুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরেই হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। তাতেই সড়কে চলাচল অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে এই সড়কে মাজা পানি জমে যাবে বলে তারা বলেন। হাসপাতাল রোডের ব্যবসায়ী জোবায়ের হোসেন জানান, বৃষ্টি বেশি হলে সড়ক তলিয়ে গিয়ে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পানি ঢুকে। কুমুদিনী মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতন সরকার জানান, বৃষ্টি হলে সড়কে হাটু পানি জমে মেডিকেল কলেজ ও ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রী ও শিক্ষকদের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক প্রবন কুমার জানান, আধা কিলোমিটারের কম দৈর্ঘ্য সড়কে ড্রেন না থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ড্রেন নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সুপারিশসহ একটি চিঠি এলজিইডিতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের এজিএম অনিমেষ ভৌমিক। তবে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান জানান, যেহেতু সড়কটি পৌরসভার ভেতরে সেজন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর রাস্তাটির ড্রেন নির্মাণ করতে পারবে না। অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে ড্রেন নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে পৌরসভায় বিশেষ প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার বলেন, সড়কটির এক পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.