লকডাউনে টাঙ্গাইলের বাস শ্রমিকদের জীবন অসহায়

0 21

নিউজ স্রোত:

 

প্রায় ৪০ বছর ধরে গণপরিবহনের সঙ্গে স¤পৃক্ত আব্দুস সামাদ (৫৬)। হেলপার থেকে সুপারভাইজার, তারপর চালক। ৩৫ বছর ধরে বাস চালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। রাত-দিন পরিশ্রম করে মাস শেষে আয় করতেন ২৫-৩০ হাজার টাকা। তা দিয়ে চলত তার যাবতীয় সাংসারিক খরচ। করোনাভাইরাস বৃদ্ধি পাওয়ায় গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে সরকার। ২১ দিন ধরে বাস চালাতে পারেন না তিনি। আয়-রোজগার না থাকায় খুব কষ্টে দিন পার করছেন। লজ্জায় কারও কাছে বলতেও পারেন না। কারও কাছে হাতও পাততে পারেননি। জমানো যা টাকা ছিল তা লকডাউন শুরুর প্রথম সপ্তাহেই শেষ হয়েছে। পানি ভাত খেয়ে সাহরি ও ইফতার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শুধু আব্দুস সামাদ নয়, তার মতো টাঙ্গাইল জেলার ১২ হাজার বাস-মিনিবাস শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত বছর লকডাউনে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সামগ্রী পেলেও এবারের লকডাউনে এখন পর্যন্ত মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি ও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি শ্রমিকরা। ফলে আগামী দিনগুলো কিভাবে পার করবেন তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন গণপরিবহনের শ্রমিকরা। আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আগে প্রতিদিন রোজগার করতাম মোটামুটি ভালোই চলতাম। এখন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে চলতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সপ্তাহে ৭০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়-সেই টাকাও নাই। পরিবহনে সেবা দেওয়ার বেলায় সবার আগে কিন্তু সুযোগ পাওয়ার বেলায় সবার পেছনে। আমাদের ক্ষেত্রে কেউ এগিয়ে আসে না। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার দাবি করছি।’সরেজমিন টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে দেখা যায়, পরিবহন শ্রমিকরা জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সামনে বসে রয়েছেন। শ্রমিক নেতাদের কাছে তাদের কষ্টের কথা শেয়ার করছেন। শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ও জনপ্রতিনিধির কাছে ত্রাণের দাবি করছেন। আবার অনেক শ্রমিক তাদের বাস পরিষ্কার করছেন। কয়েক ডজন শ্রমিকের কাছে তাদের সার্বিক অবস্থা জানতে চাইলে তারা বলেন, উপরে ভালো আছি। কিন্তু ভেতরে খুবই কষ্ট। কাজ জানা সত্তে¡ও কাজ করতে পারি না। আয়-রোজগার না থাকায় পরিবারের সদস্যরাসহ নিজেরা খুব কষ্ট আছি। মজনু মিয়া নামের অপর চালক বলেন, ১৪ মাস হলো আমার স্ত্রী স্ট্রোক করেছে। তার পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখনও সপ্তাহে ৮০০ টাকার ওষুধ লাগে। এছাড়া ছোট ছোট ছেলেমেয়ে আছে তাদের পেছনে খরচ করতে হয়। প্রথমে মানুষের কাছে ধার-দেনা করে চললেও এখন আর কেউ দিতে চায় না। সব মিলে খুব কষ্টে দিন পার করছি। যেভাবে চলছে এভাবে চলতে থাকলে আগামী ঈদে ছেলেমেয়েকে নতুন জামাকাপড় কিনে দিতে পারব না।’ টাঙ্গাইল জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ‘সমিতির আওতাভুক্ত আছেন ছয় হাজার। এছাড়া সমিতির বাইরে আরও ছয় হাজার শ্রমিক রয়েছেন। বর্তমানে বাসের চালক, সুপারভাইজার, বুকিং মাস্টার ও হেলপারসহ গণপরিবহনের সঙ্গে জড়িত সবাই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’ সমিতির সভাপতি আহসানুল ইসলাম পিটু বলেন, ‘গত বছর সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তির সহযোগিতায় শ্রমিকদের ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সমিতির উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। এ বছর এখন পর্যন্ত শ্রমিকরা কোনো সহযোগিতা পাননি।’ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস ও লকডাউনে গণপরিবহন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.