মির্জাপুরে নিহত কালচারাল অফিসারের শিশুর দায়িত্ব নিলেন -মামা

0 21

মির্জাপুর প্রতিনিধি ঃ

 

জন্মের চার দিনের মাথায় পিতার হাতে মাতা খুন এবং খুনের মামলায় আসামি হয়ে পিতা পলাতক থাকায় অসহায় শিশুর ঠিকানা হয়েছিল কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু বিভাগে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স শিশুটিকে আদর আর মমতা দিয়ে লালন পালন করে নাম রেখেছিল রোদেলা। আইনি প্রক্রিয়ায় ৩৫ দিন পর প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশেষে কুমুদিনী হাসপাতালের সেই ফুটফুটে শিশু কন্যার ঠাঁই হলো মামা-মামির ঘরে। এখন থেকে মামা মামীই তার বাবা-মা। শিশুটিকে হস্তান্তরের সময় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রবিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যগণ কুমুদিনী হাসপাতালে এসে শিশু কন্যাকে বৈধ অভিভাবক হিসেবে মামা খন্দকার আশরাদুল হক এবং মামি সাবিহা ইসলামের হাতে তুলে দেন। গত ২৭ মার্চ দুপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদোয়ানা ইসলাম ইলুকে তার স্বামী দেলোয়ার রহমান মিজান বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তখন থেকেই বাবা-মা ছাড়া অসহায় ফুটফুটে শিশু কন্যার আশ্রয় হয় কুমুদিনী হাসপাতাল। গত ১ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিশুটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে রবিবার মামলার বাদি ও কালচারাল কর্মকর্তা ইলুর ভাই খন্দকার আশরাদুল অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার বোনের উপর অমানবিক অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিল বোনের স্বামী মিজান। মিজান সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল থেকে স¤প্রতি ভোলা জেলায় বদলি হয়ে যান। গত ২২ মার্চ প্রসব ব্যাথা নিয়ে আমার বোন খন্দকার রিদোয়ানা ইসলাম ইলু হাসপাতালে ভর্তি হন। ঐ দিনই কন্যা শিশুর জন্ম হয়। আমার বোনের ছুটি হলেও শিশু কন্যা অসুস্থ্য থাকায় কেবিন ভাড়া নিয়ে থেকে যান। গত ২৭ মার্চ মিজান কুমুদিনী হাসপাতালে আসে শিশু কন্যাকে দেখতে। মিজানকে ওয়ার্ডে রেখে আমার মামি খোদেজা বেগম শিশু কন্যাকে দুধ খাওয়ানের জন্য তিন তলায় যান। ফিরে এসে দেখেন রুমের দরজা তালা। ঘটনাটি কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের জানালে তারা চাবি এনে দরজা খোলে দেখেন বালিশ চাপা দিয়ে বোন ইলুকে হত্যার পর ঘাতক স্বামী মিজান পালিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। খুনের পর থেকেই মিজান পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাজাহান মিয়া বলেন, মামলার পর থেকেই ঘাতককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.