ঘাটাইলে ড্রাগন চাষে আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার

0 16

ঘাটাইল প্রতিনিধি ঃ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার ড্রাগন ফল চাষ করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচিত হয়েছেন। তাকে অনুকরণ করে এলাকার অনেকেই এখন ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সব ধরণের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। তবে উঁচু জমিতে চাষ করা উত্তম। এ গাছ অতিরিক্ত আলো ও কম বৃষ্টি পছন্দ করে। এ গাছের গোড়ায় বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গাছ মারা যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। চারা রোপণের জন্য ভালো ভাবে জমি চাষ করে তিন মিটার পর পর গর্ত করে পাঁচ-দশ কেজি হিসান, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১০০গ্রাম টিএসপি, ১০০ এমওপি, ১০গ্রাম জিপ্ফা, ১৫-২০ গ্রাম টোপাজওবোর-ফা দিয়ে গর্ত ভরে দিতে হয়। গাছ রোপণ শেষে প্রতিটি গাছ খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হয়- যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে গাছের কোন ক্ষতি না হয়, এতে ফলনও ভালো হয়।
সূত্রমতে, ড্রাগন গাছে ফুল আসার ২০-২৫ দিনের মধ্যে ফল হয়, দুই মাস পর্যন্ত ফুল ও ফল ধরা অব্যাহত থাকে। প্রতিটি ড্রাগন ফলের ওজন ২০০গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যস্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বারি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ড্রাগন ফলের নতুন জাতটি হচ্ছে বারি ড্রাগন ফল-১, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি জনপ্রিয় ফল। এ ফলের আকার বড়, পাঁকলে খোসার রং লাল হয়ে যায় ,শাঁস গাঢ় গোলাপী রঙের, লাল ও সাদা এবং রসালো প্রকৃতির। ফলের বীজগুলো ছোট ছোট কালো ও নরম। একটি ফলের ওজন ১৫০ গ্রাম থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার জানান, তিনি সাগরদীঘি মৌজায় ইচার চালা গ্রামে দুই একর জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। ৭-৮ ফুট দূরত্বে সিমেণ্টের তৈরি পিলারের চার পাশে ড্রাগন গাছ রোপন করেছেন। সিমেণ্টের এসব পিলারের উপরে খুঁটির সাথে কষ্টটেপ দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ড্রাগন চাষী হেকমত সিকদার জানান, এবছর দুই একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। তাকে অনুসরণ করে স্থানীয় কয়েকজন বেকার যুবকও নিজেদের জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করতে শুরু করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.