মির্জাপুরে ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় ৬০ গ্রামের মানুষের জনদুর্ভোগ

0 7

মির্জাপুর প্রতিনিধি ঃ

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) অধিনে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া ভাঙ্গা রাস্তার কাজ না হওয়ায় তিন উপজেলাসহ আশপাশের অন্তত ৬০ গ্রামের মানুষের জন দুর্ভোগ দিন দিন চরম আকার ধারন করছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর স্থানীয় এমপির সহায়তায় রাস্তার উন্নয়নের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ বন্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসির চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে জনসাধারনের দুর্ভোগের চিত্র। ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন জানান, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চলের পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া ৮ মি. মি. রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। এই রাস্তা দিয়ে মির্জাপুর, সাটুরিয়া ও ধামরাই এই তিন উপজেলাসহ আশপাশের ৫০-৬০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে আসছে। রাস্তাটির দুই পাশে ও উপরে মাটি ফেলা ও প্রশস্তসহ পাকা করনের জন্য এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবী ছিল। এলাকাবাসির দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেনের উদ্যোগে রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্ধ দেন। এদিকে মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের উদ্যোগে পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তার প্রায় চার কোটি টাকার কাজ পান কাজ পান অবনী এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার হিকমত উল্লাহ। ভুক্তভোগিদের মধ্যে আল মামুন, রিপন ও ফরহাদসহ শতাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কাজ পাওয়ার পর কিছু কাজ করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হিকমত উল্লাহ নানা অযুহাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘ দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ৮ কি. মি. রাস্তায় ধুলাবালি ও কাঁদায় একাকার হয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে তিন উপজেলাসহ আশপাশের ৬০ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ এবং অসুস্থ্য রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথেও অনেকে মারা যাচ্ছেন। রাস্তাটির দ্রæত উন্নয়নের জন্য এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোরদাবী এলাকাবাসির। এ ব্যাপারে অবনী এন্টার প্রাইজের ঠিকাদার মো. হিকমত উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফান্ড না থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। ফান্ড পাওয়া সাপেক্ষে রাস্তার কাজ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাস্তার তদারকির কাজে নিয়োজিত মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঠিকাদাকার নানা অযুহাত দেখিয়ে রাস্তার কাজ বন্ধ রেখেছেন। রাস্তার কাজ দ্রæত সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগে কাজ শেষ না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়পুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রাস্তার কাজ যাতে দ্রæত সময়ে শেষ হয় এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া রাস্তার কাজে কোন অনিয়মের কারনে কাজ বন্ধ থাকলে এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.