মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান

0 11

নিউজ স্রোত:

 

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর-এর অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমানকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর পদে ০৪(চার)বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করেছেন। তিনি ১১ এপ্রিল ২০২১তারিখ রবিবার উক্ত পদে যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার গবরীকুড়া গ্রামেরএক স¤্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৫৫ সনে জন্মগ্রহণ করেন।তিনি ঢাকা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সাথে ১৯৭১ সনে এসএসসি ও ১৯৭৩ সনে এইচ এসসি পাশ করেন এবং বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৭ সনে বিএসসি এজি ও ১৯৭৮ সনে এমএসসি এজি (মৃত্তিকাবিজ্ঞান) ডিগ্রি অর্জন করেন। কমনওয়েলথ বৃত্তির অধীনে যুক্তরাজ্যের ‘দি কুইন্স ইউনিভার্সিটি অব বেলফাস্ট’ থেকে তিনি ১৯৮৮ সনে পিএইচডি ডিগি ্রঅর্জন করেন। প্রফেসর সোলাইমান ২০০৫-২০০৬ সনে কমনওয়েলথ ফেলোশিপের অধীনে যুক্তরাজ্যের ‘ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন’ এ পোস্ট-ডক্টোরালরিসাসর্ করেন।তিনি ২০১৫ সনে জার্মানির‘রাইনওয়ালইউনিভার্সিটিতে’ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রফেসর সোলাইমান ১৯৮০ হতে ১৯৯৬ সনের প্রথমদিক পর্যন্ত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচারে (বিনা) যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ সনের ১৪ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০০সনে অধ্যাপক হন।
প্রফেসর সোলাইমান ৪০ বছর যাবৎ শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কাজের সাথে জড়িত আছেন। তিনি ১৫ জন পিএইচডি এবং ৩০ জন মাস্টার্স শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত¡াবধায়ক ছিলেন। তিনি সয়েলমাইক্রোবায়োলজি বিষয়ক গবেষণা প্রকল্পের প্রধান হিসাবে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় বস্তু ছিল প্ল্যান্ট-মাইক্রোবইন্টার অ্যাকশন,বায়োলজিকাল নাইট্রোজেন ফিক্সেশন, প্ল্যান্ট গ্রোথ প্রমোটিং রাইজোব্যাকটেরিয়া এবং ইন্টিগ্রেটেডনিউট্রিয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট।আন্তর্জাতিক ও জাতীয় খ্যাতিমান জার্নালে তাঁর দেড়শতাধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, নেপাল এবং ভুটানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ গ্রহণ ও তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা ছাড়াও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য, পরিচালক (গবেষণা), পরিচালক (আন্তর্জাতিকবিষয়ক), মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান, লাইব্রেরির প্রধান এবং ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রফেসর সোলাইমান বেশ কয়েকটি পাবলিক কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ সদস্য (চ্যান্সেলরমনোনীত)এবং এনএআরএস সংস্থার গবেষণা কাজের মূল্যায়নকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নয়টি পেশাজীবী সংগঠন যেমন:বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অবসায়েন্স, সয়েলসায়েন্স সোসাইটি অববাংলাদেশ, বাংলাদেশ সোসাইটি অবমাইক্রোবায়োলজিস্টস, বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সায়েন্টিস্টঅ্যান্ডসায়েন্টিফিকপ্রফেশন, প্ল্যান্টব্রিডিংঅ্যান্ড জেনেটিকস সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অবকমনওয়েলথ স্কলারস এন্ড ফেলোস, কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন এবং এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর আজীবন সদস্য।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস এর সভাপতি এবং সয়েলসায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদ এর আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়াও তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৩১ মে পর্যš Íপ্রথম প্রো-ভাইসচ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. মনিরুজ্জামান দায়িত্ব শেষ করার পর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর পদটি শূন্য ছিল। প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.