মির্জাপুরে আইডিয়াল গ্রুপ সংগঠনের এডমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

0 4

মির্জাপুর প্রতিনিধি:

আইডিয়াল মির্জাপুর গ্রুপ নামে একটি স্বেচ্ছা সংগঠন এবং এই গ্রুপের এডমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের প্রতিবাদ ও এডমিনের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে আইডিয়াল গ্রুপ সংগঠন থেকে ১০ জন সদস্য পদত্যাগ করেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে ২০১৮ সালে মির্জাপুরে আইডিয়াল মির্জাপুর গ্রুপ ফেইজবুক নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হয়। সরকারী আইন অমান্য করে এই গ্রুপের এডমিন হন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজাদ রহমান। ফেইজবুক গ্রুপে বিভিন্ন কৌশলে তিনি প্রচার-প্রচারনা ও সহযোগিতার নামে দেশ বিদেশ থেকে বিভিন্ন লোকজনের নিকট মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেন। সংগঠনের সদস্যগন অভিযোগ করেন, সংগঠন পরিচালনার জন্য ব্যাংক হিসার খোলার বিধান থাকলেও তিনি কোন ব্যাংক হিসাব খোলেননি। বিভিন্ন জনের অনুদানের টাকা লোক দেখানোর জন্য মাঝে মধ্যে দু, একজনকে দেওয়া হলেও অধিকাংশ টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ডিসি, এসপি, ইউএনও, এসিল্যান্ড, ওসিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে আইডিয়াল গ্রæপের নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোন প্রতিবাদ করতে গেলেই গ্রæপের সদস্যদের নানা ভাবে ভয়ভিতি ও হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে গত মঙ্গলবার ২ মার্চ গ্রæপ থেকে ১০ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছে ওসমানগনি, শাহীন আলম, জুবায়ের, ফারহান ইসলাম জনি, মুনরুজ্জামান, শামীম মিয়া, উজ্জলসহ ১০ জন। অনেকেই জানিয়েছেন, একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে তিনি কি ভাবে ফেইজবুক গ্রæপের এডমিনের দায়িত্ব পালন করেন এ নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোরদাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
এ ব্যাপারে আইডিয়াল (ফেইজবুক) গ্রæপের এডমিন ও বহুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজাদ রহমান বলেন, আইডিয়াল গ্রæপ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। বিভিন্ন লোকজনদের কাছ থেকে অনুদানের টাকা অসহায়দের সহযোগিতা করা হয়। অনিয়ম দুর্নীতি করে টাকা আতœসাত করা হয়নি। যারা কমিটিতে আসতে পারেনি নানা অভিযোগ করে তারা পদত্যাগ করেছে। গ্রæপের কোন ব্যাংক হিসাব আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোন ব্যাংক হিসাব নেই, যখন অনুদান পাওয়া গেছে সাথে সাথে খরচ করা হয়েছে। বর্তমানে এই গ্রæপের কোন কমিটি নেই বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি একই এই গ্রæপের এডমিন বলে দাবী করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, আইডিয়াল গ্রæপের খোঁজ-খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.