গোপালপুরে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে খুন হলেন খলিল

0 12

গোপালপুর প্রতিনিধি ঃ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে বলির পাঠা হয়েছেন ক্ষুদে ব্যবসায়ী খলিল মিয়া(৩৮)। দোকানে বিক্রির জন্য সুপারী কিনতে গিয়ে সংঘর্ষস্থলে দেশীয় অস্ত্রের এলোপাতারি আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত খলিল মিয়া পৌরসভার ডুবাইল আটাপাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
সরেজমিনে জানা যায়, গোপালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রকিবুল হক ছানার (নৌকা প্রতীক) নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতির নেতৃত্বে ৭-৮জনের একটি দল সোমবার(৮ ফেব্রæয়ারি) সন্ধ্যার দিকে গোপালপুর যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দ থানা মোড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে জেলা আ’লীগের নেতারা চলে আসার পর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী(বর্তমানে বহিস্কৃত) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাজার মোড়ে জমায়েত হন। সেখানে নৌকা প্রতীক প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাদের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের(নারকেল গাছ প্রতীক) কর্মী-সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও শ্রমিক লীগের ১০-১২ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গোপালপুর উপজেলা কৃষকলীগের আহŸায়ক মো. হাসানুল ইসলাম দুলাল, আওয়ামী যুবলীগ নেতা সজিব, শ্রমিক লীগের কর্মী রফিকুল ইসলাম রফিক, রনি মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ মন্ডল, অর্পন ও ব্যবসায়ী বাবলু মিয়ার নাম জানাগেছে। এ সময় থানা মোড়স্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের খবর পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং আ’লীগের কর্মী-সমর্থকরা ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের ভাইয়ের একটি দোকানে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা ৩০-৩৫জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে বাজারে অবস্থিত তার বাসায় চলে যান। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা তার বাসায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে তার গ্রামের বাড়ি পৌরসভার ডুবাইলে খবর দেওয়া হয়।
‘নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের বাসা ও দোকানে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে’ এমন খবরে গিয়াস উদ্দিনের নিজ গ্রাম ডুবাইল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়। বিদ্রোহী প্রার্থীর নারকেল গাছ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের জঙ্গি মিছিল সোমেশপুর এলাকায় পৌঁছলে ওই এলাকার নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা মিছিলে বাঁধা দেয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক মিছিলে আসা খলিল মিয়া সহ ৭-৮জন আহত হয়। পরে খলিলকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ডুবাইল এলাকার উত্তেজিত জনতা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে গোপালপুর-টাঙ্গাইল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত খলিল মিয়া অত্যন্ত নিন্মবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাড়ির পাশে একটি মনোহরি ছোট্ট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি সুযোগ পেলেই দিনমজুরী করতেন, ভ্যান-রিকশা চালাতেন। খলিল মিয়া দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে রুনিয়াকে এসএসসি পাস করার পর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে আঁখি আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।
নিহত খলিল মিয়ার প্রতিবেশি শাজাহান, স্থানীয় গৃহবধূ সুমী আক্তার জানান, তারা জানতে পেরেছেন- খলিল মিয়া দোকানে পান বিক্রির জন্য সুপারী কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে তার বাড়িঘরে ভাংচুর চালানোর কথা শুনে তিনি গ্রামের অন্যদের সাথে মিছিলে যোগ দিয়ে গোপালপুর বাজারে রওয়ানা হন। পথে সোমেশপুর নামকস্থানে পৌঁছলে সেখানে থাকা আ’লীগের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। হুড়োহুড়িতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সে সময় মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কারা তাকে এলোপাতারি আঘাত করেছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন জানান, নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে নিজেদের অফিস নিজেরাই ভাংচুর করেছে। পরে গুজব ছড়িয়ে তার সমর্থকদের উপর তারা হামলা চালায়। তার ও তার ভাইয়ের দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় এবং তার সমর্থক খলিল মিয়াকে দেশীয় অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করেছে।
আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র রকিবুল হক ছানা জানান, বিএনপি প্রার্থী খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে আঁতাত করে ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন প্রচার- প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রায়ই আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত হয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তিনি নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছেন। কিন্তু আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সকল প্রকার উস্কানি উপেক্ষা করে একতাবদ্ধ হয়ে ধৈর্য্যরে সাথে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের মতের গড়মিল হয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ দ্ব›েদ্বর জের ধরে সোমেশপুরে সংঘর্ষ ও খলিল মিয়া নিহত হয়ে থাকতে পারে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত খলিল মিয়ার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রæত গ্রেপ্তার করা হবে। তবে আ’লীগ অফিস ভাংচুরের ঘটনায় ৮জনকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সহকারী পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) আমির খসরু জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত খলিলের বাবা নজিমুদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পরে আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুরের ঘটনায় মো. হিরা নামে এক আ’লীগ কর্মী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১৫-২০ সমর্থককে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ীগ নেতৃবৃন্দ থানা মোড়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে জেলা আ’লীগের নেতারা চলে আসার পর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী(বর্তমানে বহিস্কৃত) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বাজার মোড়ে জমায়েত হন। সেখানে নৌকা প্রতীক প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাদের বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের(নারকেল গাছ প্রতীক) কর্মী-সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাংচুর করে। এ ঘটনায় আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও শ্রমিক লীগের ১০-১২ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গোপালপুর উপজেলা কৃষকলীগের আহŸায়ক মো. হাসানুল ইসলাম দুলাল, আওয়ামী যুবলীগ নেতা সজিব, শ্রমিক লীগের কর্মী রফিকুল ইসলাম রফিক, রনি মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ মন্ডল, অর্পন ও ব্যবসায়ী বাবলু মিয়ার নাম জানাগেছে। এ সময় থানা মোড়স্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের খবর পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং আ’লীগের কর্মী-সমর্থকরা ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের ভাইয়ের একটি দোকানে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন ও তার সঙ্গে থাকা ৩০-৩৫জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে বাজারে অবস্থিত তার বাসায় চলে যান। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা তার বাসায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে তার গ্রামের বাড়ি পৌরসভার ডুবাইলে খবর দেওয়া হয়।
‘নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের বাসা ও দোকানে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে’ এমন খবরে গিয়াস উদ্দিনের নিজ গ্রাম ডুবাইল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তার কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে রওনা হয়। বিদ্রোহী প্রার্থীর নারকেল গাছ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের জঙ্গি মিছিল সোমেশপুর এলাকায় পৌঁছলে ওই এলাকার নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা মিছিলে বাঁধা দেয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক মিছিলে আসা খলিল মিয়া সহ ৭-৮জন আহত হয়। পরে খলিলকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ডুবাইল এলাকার উত্তেজিত জনতা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে গোপালপুর-টাঙ্গাইল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত খলিল মিয়া অত্যন্ত নি¤œবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাড়ির পাশে একটি মনোহরি ছোট্ট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি সুযোগ পেলেই দিনমজুরী করতেন, ভ্যান-রিকশা চালাতেন। খলিল মিয়া দুই কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে রুনিয়াকে এসএসসি পাস করার পর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে আঁখি আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।
নিহত খলিল মিয়ার প্রতিবেশি শাজাহান, স্থানীয় গৃহবধূ সুমী আক্তার জানান, তারা জানতে পেরেছেন- খলিল মিয়া দোকানে পান বিক্রির জন্য সুপারী কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে তার বাড়িঘরে ভাংচুর চালানোর কথা শুনে তিনি গ্রামের অন্যদের সাথে মিছিলে যোগ দিয়ে গোপালপুর বাজারে রওয়ানা হন। পথে সোমেশপুর নামকস্থানে পৌঁছলে সেখানে থাকা আ’লীগের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। হুড়োহুড়িতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সে সময় মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কারা তাকে এলোপাতারি আঘাত করেছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন জানান, নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে নিজেদের অফিস নিজেরাই ভাংচুর করেছে। পরে গুজব ছড়িয়ে তার সমর্থকদের উপর তারা হামলা চালায়। তার ও তার ভাইয়ের দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় এবং তার সমর্থক খলিল মিয়াকে দেশীয় অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে হত্যা করেছে।
আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র রকিবুল হক ছানা জানান, বিএনপি প্রার্থী খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে আঁতাত করে ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নারকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন প্রচার- প্রচারণা চালাতে গিয়ে প্রায়ই আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কৃত হয়ে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাই আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তিনি নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছেন। কিন্তু আ’লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সকল প্রকার উস্কানি উপেক্ষা করে একতাবদ্ধ হয়ে ধৈর্য্যরে সাথে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের মতের গড়মিল হয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ দ্ব›েদ্বর জের ধরে সোমেশপুরে সংঘর্ষ ও খলিল মিয়া নিহত হয়ে থাকতে পারে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত খলিল মিয়ার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রæত গ্রেপ্তার করা হবে। তবে আ’লীগ অফিস ভাংচুরের ঘটনায় ৮জনকে গ্রেপ্তার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল সহকারী পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) আমির খসরু জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত খলিলের বাবা নজিমুদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। পরে আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুরের ঘটনায় মো. হিরা নামে এক আ’লীগ কর্মী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১৫-২০ সমর্থককে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.