এলেঙ্গায় চাঁদা না দেওয়ায় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

0 5

কালিহাতী প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার মশাজান গ্রামে জমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমি জবরদখলের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এলেঙ্গা পৌরসভার মশাজান গ্রামের মৃত আফেজ আলীর ছেলে হুরমুজ আলীর(৫৫) ও তার আত্মীয়দের কিছু জমি বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়ক নির্মাণে অধিগ্রহন করা হয়। ওই অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা উত্তোলন করা হলে প্রতিবেশি মৃত মজিবর রহমানের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন(৫০) ও তার সহযোগীরা ১০ লাখ টাকা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় গত ১২ জানুয়ারি সকালে হুরমুজ আলীর মশাজান মৌজায় তার ৭১৫ হাল খতিয়ানে ৪৭৬ হাল দাগে ৩০ শতাংশ জমি চাষাবাদ করতে গেলে দেলোয়ার, তার ভাই হারুন, রফিকুল, চাচাত ভাই রশিদ, আফজাল, শহিদ, করিম সহ ১৮-২০ ব্যক্তি বাঁধা দেয়। এ সময় চাঁদার টাকা নিয়ে হুরমুজ আলীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হুরমুজ আলীকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা মারপিট করে। হট্টগোল দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে হুরমুজ আলীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তারা ওই জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করতে থাকে। এ বিষয়ে হুরমুজ আলী বাদি হয়ে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন।
আদালতে মামলা দায়ের করার খবর জানতে পেরে উল্লেখিত ব্যক্তিরা হুরমুজ আলীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। প্রাণ ভয়ে হুরমুজ আলী বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, জমি অধিগ্রহনের টাকা উত্তোলন করতে তিনি হুরমুজ আলীকে সহযোগিতা করেছেন। সেখানে তিনি টাকাও খরচ করেছেন তাই টাকা দাবি করছেন।
এলেঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর বরকত উল্লাহ জানান, দেলোয়ার পুলিশ মূলত হুরমুজ আলীর কাছে কোন টাকা-পয়সা পান না। জমি অধিগ্রহনের বিষয়ে অন্য লোকের কাছে তার টাকা পাওনা রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। দেলোয়ার পুলিশরা অবৈধভাবে হুরমুজ আলীর জমিতে মাটি কেটেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.