ঘাটাইলে শতাধিক অবৈধ কারাতকল বনের গাছ গিলে খাচ্ছে

0 1

ঘাটাইল  প্রতিনিধিঃ

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা শতাধিক অবৈধ করাতাকল বনের গাছ গিলে খাচ্ছে। ঘাটাইলের ১৮০টি করাতকলের মধ্যেই শতাধিক করাতকলের লাইসেন্স নেই। এসব করাতকলগুলো গড়ে উঠেছে বনভূমি ও সংরক্ষিত বনভূমির ভিতরে। বৈধ গাছ ছাড়াও প্রতিদিন বনের চোরাই গাছ চিরাই করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে। ফলে সামাজিক বনাঞ্চল ছাড়াও দিনদিন উজার হচ্ছে সংরক্ষিত বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিসের ৬টি বিটের আওতায় বনাঞ্চল রয়েছে ৮৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার। ৪৯টি মৌজায় বনভূমি ও সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার একর। এই বিশাল বনভূমিতে শাল গজারি ছাড়াও আকাশমণি, মেনজিয়াম, ইউক্যালিপ্টাস, সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বনের ভিতরে ও বন ঘেঁষে অবৈধভাবে করাতকল স্থাপন করা হয়েছে ১০১টি। অথচ বন আইন অনুসারে বনাঞ্চলের ১০কি.মি. এলাকার মধ্যে করাতকল স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব করাতকল উচ্ছেদের জন্য একটি তালিকা প্রায় এক বছর আগে জমা দেন বন কর্মকর্তা। এখনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ৫ অক্টোবর উপজেলায় বন ও পরিবেশ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বন ও পরিবেশ কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় আগামী মাসিক সভার আগেই উচ্ছেদ করা হবে অবৈধ করাতকল। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় সংরক্ষিত বন পরিণত হচ্ছে বিরান ভূমিতে। সরেজমিনে দেখা যায়, রেঞ্জ ও বিট অফিসের নাকের ডগায় করাতকল স্থাপন করে দিনরাত কাঠ চিরাই চলছে। অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের লোকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এসব করাতকল চলতে পারেনা। এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান কাঠ চিরাইয়ের সময় হাতেনাতে ধরে মাত্র দু চারটা কলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চলসহ পরিবেশ রক্ষায় উপজেলায় বন ও পরিবেশ কমিটি থাকলেও এ কমিটির কার্যক্রম চলছে শুধু কাগজে কলমে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক করাতকল মালিকরা জানায়, লাইসেন্স না থাকলেও বন কর্মকর্তাদের মৌখিক অনুমতি নিয়ে চলছে বেশ কিছু করাতকল। করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি আ. হালিম বলেন, অবৈধ করাতকলের কারণে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে অন্যদিকে বনও হারাচ্ছে। বনের চোরাই গাছ চিরাই করে তারা কম দামে বিক্রি করতে পারে যা আমরা পারিনা। ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ্ বলেন, যে কোনো মূল্যে বনের ভিতর থেকে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদের জন্য এসব কলের তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ করাতকলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.