ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুই দিনে ৮ ডাকাত গ্রেফতার

0 6

মির্জাপুর প্রতিনিধিঃ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীরা আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৮০ কি. মি. এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারী চক্রের নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও গোড়াই হাইওয়ে থানা পুলিশ একটি মাইক্রোবাসহ ৮ ডাকাত, ছিনতাইকারী এবং অপহরণকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার হয়েছে অপহৃত এক যুবক। বুধবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। গোড়াই হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এই মহাসড়কের চন্দ্রা, বাইপাইল, নবীনগর, কোনাবাড়ি, আশুলিয়া, জয়দেবপুর, উত্তরা, মহাখালী ও গাবতলী থেকে অপরাধীরা নানা কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে আসছে। গত সোমবার রিপন (২৬) নামে যুবককে অপহরণ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে পালানোর সময় আন্তঃজেলা ডাকাত ও অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে মাইক্রোসবাসহ গ্রেফতার করেছে হাইওয়ে থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী ও ডাকাত দলের তিন সদস্য পালিয়ে যায়। অপহরণকারী দলের সদস্যদের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোড়াই হাইওয় থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, গত সোমবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কৌশলে রিপনকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে পৌঁছে দিবে বলে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে উঠায়। মাইক্রোবাসে আরও ৫ জন যাত্রী ছিল যারা সবাই আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাকাইকারী দলের সদস্য। রিপনের পিতার নাম সালাম বেপারি। গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রিপনকে মাইক্রোবাসে উঠানোর পর ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা কালিয়াকৈর ওভারব্রিজ পার হওয়ার পর পরই রিপনের হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারপিট করে ২৮ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মালামাল নিয়ে নেয়। মাইক্রোবাসটি গোড়াই বাস স্টেশনে আসার সময় মাইক্রোবাসে আর্তচিৎকার শুনে ডিউটিরত হাইওয়ে পুলিশ ধাওয়া করে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কাশেম ড্রাইসেল এলাকায় অপহরণকারী যুবক রিপনকে আহত অবস্থায় ফেলে দিয়ে ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশও পিছন দিকে ধাওয়া দিলে মাইক্রোবাসটি দেওহাটা ওভারব্রিজ দিয়ে ইউটান ঘুরে বাইমাইল গ্রামে ঢুকে পালানোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসির সহযোগিতায় দুই ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হচ্ছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সাতারহাটা গ্রামের হালিম মিয়ার ছেলে সহিদুল ইসলাম নাহিদ (২৮) এবং একই উপজেলার পাচারচর গ্রামের নুর আলমের ছেলে জাকির হোসেন (৩০)। এ সময় তিন ডাকাত ও ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। পলাতকদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চলছে। এর আগে শুক্রবার গোপন সংবাদ পেয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কদিমধল্যা নামক স্থানে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ৬ ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়। আটক ডাকাত দলের সদস্যরা হচ্ছে হারুন (২২), রবিন (২৫), রাজ্জাক (২৪), শাহীন (২৫), জাফর (২৬) এবং কামরুল (২৫)। তারা একাধিক ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলার আসামী। চক্রটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক রোডে রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে যানবহনের যাত্রী ও চালকদের জিম্মি করে মালামাল ও নগদ টাকা লুটে নিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের হাইওয়ে থানা পুলিশ গ্রেফতারের পর থানায় সোপর্দ করেছেন। অপহরণকারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.