ঘাটাইলে লাল পাহাড়ি ভূমিতে হলুদের সবুজায়ন

0 5

ঘাটাইল থেকে:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে লাল পাহাড়ি ভূমিতে হলুদের সবুজায়ন। এ যেন সবুজের বিপ্লব ঘটেছে। উঁচু নিচু টিলার যে দিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মেলে হলুদ গাছের। পাহাড়ী কৃষকের কাছে লাভজনক এক ফসলের নাম হলুদ। এ জনপদের মাটিও হলুদ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের আয়তনের প্রায় একতৃতীয়াংশই হচ্ছে পাহাড়ী অঞ্চল। চলতি বছর উপজেলায় হলুদের আবাদ হয়েছে এক হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, সাধারণত উপজেলার পাহাড়ী সাতটি ইউনিয়নে হলুদের আবাদ হয়ে থাকে। এ বছর চাষ করা হয়েছে এক হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এ ফসলে রোগ বালাই নেই। তেমন পরিচর্যাও করতে হয়না। খরচও অনেক কম। কিন্তু লাভ বেশি। কুশারিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানায়, বিঘা প্রতি সব মিলিয়ে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মণ হলুদ হয়। দামও বেশ ভালো। গত বছর কাঁচা অবস্থায় মোথা হলুদ প্রতি মণ পাইকারী বিক্রি হয়েছে ৯শ’ টাকা এবং শাখা হলুদ সাড়ে ৫শ’ টাকায়। প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি হয়েছে মোথা সাড়ে ৩ হাজার এবং শাখা ৩ হাজার টাকায়। হলুদ চাষি সোহেল জানায়, ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় হলুদের ফলন বেশি লাভও বেশি, খরচ কম। গত বছর বিঘা প্রতি আমার বিশ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে হলুদ চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে হলুদ চাষিরা জানান, আগে কৃষি অফিস থেকে উন্নত জাতের হলুদ বীজ দেয়া হতো, এখন তা বন্ধ আছে। ওই বীজে ফলন অনেক ভালো হয়। জানা যায় যে প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের হলুদ বীজ বিতরণ করা হত সেই প্রকল্পটি বর্তমানে বন্ধ আছে। তাই বীজ বিতরণও বন্ধ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, এ বছর উপজেলায় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পঁচন রোগ ছাড়া এ ফসলের তেমন কোন রোগ-বালাই নেই। তবে উন্নত জাতের বীজ শোধন করে বপন করলে সাধারণত এ রোগ হয় না। আমরা কৃষকদের হলুদ চাষে প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.