মির্জাপুরে আবার ধ্বংস করা হয়েছে বনের কাঠ দিয়ে অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি

0 2

মির্জাপুর প্রতিনিধি ঃ

 

বৃষ্টি উপেক্ষা করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি বনাঞ্চলের ভিতরে কাঠ পুড়িয়ে অবৈধ কয়লা তৈরির ১৪টি চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। এ সময় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এ কয়লার চুল্লি ধ্বংস এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কাঠ উদ্ধার করা হয় বলে সদর বিট কর্মকর্তা মো. জাহেদ হোসেন জানিয়েছেন। শনিবার বাঁশতৈল সদর রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার রহমান জানান, একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে গায়রাবেতিল, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল, বংশীনগর, আজগানা, কুড়িপাড়া, পাথরঘাটা, তরফপুর ও খাটিয়ারহাটসহ বেশ কিছু এলাকায় বনের আশপাশে অবৈধ ভাবে চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছে। এতে করে বনজ সম্পদ ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয় নেমে এসেছে এবং আশপাশের গ্রামের গাছপালা ও ফসলি জমি নষ্ট হয়ে লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলের বন সংরক্ষক ড. জহিরুল ইসলাম ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. জামাল হোসেন তালুকদারের নির্দেশে শুক্রবার বাঁশতৈল এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির ১৪টি চুল্লি ধ্বংস এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়। এর আগেও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গায়রাবেতিল, নয়াপাড়া, বাঁশতৈল, বংশীনগর, আজগানা, কুড়িপাড়া, পাথরঘাটা, তরফপুর ও খাটিয়ারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ কয়লার চুল্লি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। এদিকে বাঁশতৈল সদর অফিসের বিট কর্মকর্তা মো. জাহেদ হোসেন ও হাটুভাঙ্গা বিটের কর্মকর্তা জানান, সরকারি গজারি বনের গাছ চুরি ঠেকাতে বন বিভাগ কর্তৃক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযানের সময় চোরাই পথে আসা বন বিভাগের গজারি গাছসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই কাঠ আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বনের ভিতরে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা করাত কল ও যন্ত্রপাতি। হাটুভাঙ্গা অফিসের বিট কর্মকর্তা জানান, মির্জাপুরে ১৫ হাজার ৮০০শ হেক্টর সরকারি বনভূমি রয়েছে। বিশাল এই বনভূমিতে গজারি, গর্জন, সেগুন, আকাশমণি, পিকরাশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে। এছাড়া সামাজিক বনায়ন কর্মসূচীর আওতায় প্রচুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এলাকার উপকার ভোগীদের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের অধীনে পাথরঘাটা, কুড়িপাড়া, হাটুভাঙ্গা, বংশীনগরসহ বিভিন্ন বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ গজারি চোরাই কাঠ উদ্ধার ও বনাঞ্চলের ভিতরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা করাত কল উচ্ছেদসহ কাঠ চিড়াইয়ের সরঞ্জাম উদ্ধার করে বেশ কিছু মামলা দেওয়া হয়েছে। বন রক্ষার জন্য তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে ঐ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন সংরক্ষক ড. জহিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বাঁশতৈল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ টি অবৈধ কয়লার চুল্লি ধ্বংস এবং জ্বালানি কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বনের ভিতরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা করাত কল উচ্ছেদ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে কাঠ চোরদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। সরকারি বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.