টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদের বিরুদ্বে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

0 12

নিউজ স্রোতঃ

টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবু সাঈদের বিরুদ্বে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তার দ্বারা প্রতারনার শিকার আব্দুল মালেক বকুল ও মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ফৌজদারী মামলা দায়ের করেন। পরে আপোষ হওয়ার শর্তে আদালত থেকে জামিনে আসেন। এর পর থেকে তিনি আর আপোষ না করে উপর মহলের পরামর্শে বাদীদের সাথে আপোষ না করে নানা পায়তারা শুরু করেছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আবু সাঈদ ঢাকার উত্তর সিটির তেজগাও এলাকার ইন্দিরা রোডের মোঃ আব্দুল মালেক বকুল এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। তাদের সম্পর্ক যখন গভীর তখন অধ্যক্ষ সাঈদ বলেন তার মাদ্রাসায় এক পুরুষ অফিস সহকারী ও একজন মহিলা অফিস সহকারী নিয়োগ করবেন। তার কথায় সম্মত হয়ে বাদী বকুল ৬ লাখ টাকা জমি বিক্রি করে মাদ্রাসার প্যাডে লিখিত রেখে অধ্যক্ষ আবু সাঈদকে বুঝিয়ে দেন। ৩/১০/২০১৭ইং তারিখে এই টাকা গ্রহন করেন অধ্যক্ষ আবু সাঈদ। এর পর থেকেই বাদীর সাথে তালবাহানা শুরু করেন অধ্যক্ষ সাঈদ। পরে বাধ্য হয়ে ৫/০৪/২০১৮ইং তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা দায়ের করেন বাদী বকুল। পরে ২৬/০৪/২০১৮ইং তারিখে অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আদালতে হাজির হয়ে আপোষের শর্তে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তার জামিন মনঞ্জুর করেন।
একই কায়দায় অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার রুহিতপুর এলাকার মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর নামে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি টাকা ফেরত চাইলে তাকে হুমকি প্রদান করেন অধ্যক্ষ সাঈদ। পরে সেও ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৮/১২/২০১৮ইং তারিখে মাশলা দায়ের করেন অধ্যক্ষ সাঈদ ও তার অফিস সহকারী আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। পরে ৮/০১/২০১৯ইং তারিখে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেন। আদালত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ ও তার অফিস সহকারী আব্দুল গফুরকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।
আইনের বিধান অনুযায়ী কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিধান রয়েছে। যেহেতু অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মুল বেতনের ৯০ ভাগ জিওবি তহবিল থেকে গ্রহন করেন সেহেতু তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা চলমান তাই প্রথমে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( শিক্ষাও তথ্য যোগাযোগ) মাদ্রাসার গভণিং বডির সভাপতি হিসাবে টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাঈদকে সাময়িক বরখাস্তের আবেদন জানান। কিন্ত এখনও তিনি স্ব-পদে বহাল রয়েছেন। এমনকি মাদ্রসার তহবিল থেকে মামলার খরচ নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতসব অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাতের পরেও তিনি অধ্যক্ষ হিসাবে বহাল থাকায় বাদীগনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.