বিয়ের দাবিতে পাঁচদিন ধরে সেনা সদস্যের বাড়িতে কলেজ ছাত্রীর অনশন

0 10

ঘাটাইল  প্রতিনিধি:

এসএসসি পরীক্ষার সময় পরিচয়। সেই থেকে মন দেয়-নেয়া। এরপর পাঁচ বছর চুকিয়ে প্রেম করা। এক সময় প্রেমের সম্পর্ক পরিনত হয় দৈহিক সর্ম্পকে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিয়ে করার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান প্রেমিক মুজাম্মেল (২৩)। বিষয়টি বুঝতে পেরে কৌশলে মুজাম্মেলকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার পরিবার। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরে তালা দিয়ে উধাও হয়ে যায়। পাঁচ দিন ধরে ওই বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে প্রেমিকা লিপি (২২)। ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ি ইউনিয়নের সামারগাঁ গ্রামে।
জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার সামারগাঁ গ্রামের রশিদ তালুকদারের ছেলে মুজাম্মেল ও একই উপজেলার ছয়আনী বকশিয়া গ্রামের জামাল হোসেনের মেয়ে লিপির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রায় পাঁচ বছর আগে। ২০১৬ সালে দুজনেই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সেই সময়ই মন দেয়-নেয়া। লিপি জানান, মুজাম্মেল সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে। সে বিয়ে করার প্রতিশ্রæতি দিয়ে বিভিন্ন সময় আমার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। বিয়ের কথা বলে সে গত শুক্রবার তার বাড়িতে আমাকে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি তার পরিবার জানতে পেরে কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তিনি আরও জানান মুজাম্মেলের মা, বোন এবং ওর চাচী আমাকে মারধর করেন। এলাকায় জানাজানি হলে ওইদিন রাতেই পরিবারের সবাই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রাতের বেলা বাহিরে বসে থাকতে দেখে ছেলের চাচা আমাকে ঘরে আশ্রয় দেন। মুজাম্মেলের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, সবারই তো মেয়ে আছে। মেয়েটা রাতে একা বাহিরে বসে ছিল, তাই রাতে আমার ঘরেই থাকতে দেই। এখন পর্যন্ত আমার কাছেই আছে। এদিকে মুজাম্মেলের সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পেরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে জানান মেয়ের বড় বোন জেসমিন সুলতানা। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মাকছুদুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর আজ ১১ আগস্ট বিকেলে ঘটানাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেন বলেন, মেয়েটা কয়েকদিন ধরে ওই বাড়িতে আছে। বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
দেউলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মো.রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনাটি আমি জানতে পেরেছি, তবে ছেলে পক্ষের কেউ আমার কাছে আসেনি।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.