টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি ১১ উপজেলার মানুষ পানি বন্ধি

0 1

নিউজ স্রোতঃ

টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ক্রমাগতভাবে বাড়ছে জেলার নদ-নদীর পানি। জেলার প্রতিটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরীর ১৬০ সেন্টিমিটার আর ঝিনাই নদীর পানি ১০১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফলে জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলার ৭৯ ইউনিয়নের ৫৫৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলোর পাশাপাশি নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে উপজেলার পৌর শহর। বন্যায় অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি আর ব্রিজ ভেঙে পড়াসহ তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দেয়াসহ রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ পানি বন্ধি মানুষদের।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরীর নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার আর ঝিনাই নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়, জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ১১ উপজেলার ৬২১ বর্গ কিলোমিটার নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর ও ঘাটাইল।

বন্যাকবলিত ১১ উপজেলার ৭৯ ইউনিয়নের অন্তত ৫৫৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ছয় পৌরসভার আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন লাখ ৯৩ হাজার ৬৭১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৩০০। পানিবন্দি লোক সংখ্যা এক লাখ ৭৩ হাজার ২০০ জন।
অপরদিকে, ৭৬১টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়েছে। ২৮ হাজার ৮৯৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে ৭৬৮৬টি টিউবওয়েল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

নদীভাঙনে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ আর ৩৬টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ছয় কিলোমিটার কাঁচা এবং ৮১ কিলোমিটার পাকা সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙেছে পাঁচ সেতু; ৪৯টি সেতু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৩৯ আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছেন তিন হাজার ২০১ জন। ১১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলায় ৬০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা, দুই লাখ টাকার শিশুখাদ্য, ছয় লাখ টাকার গো-খাদ্যসহ ছয় হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফার বন্যায় জেলায় তিন হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২৭ হাজার ২৩৩ জন। দ্বিতীয় দফার বন্যায় এখন পর্যন্ত ৮০৪৬ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফসলগুলোর মধ্যে রয়েছে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, তিল ও লেবু।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলার প্রধান সব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে নদীর পানি। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাঁধ ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদীর ভাঙন তীর্ব হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.