ঘাটাইলে সরকারী ভূমি দখল করে লেবুর বাগান করেছে ইউ পি চেয়ারম্যান

0 1

ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ

ঘাটাইলে বনবিভাগের সংরক্ষিত ভূমি দখল লেবুর বাগান করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হাবিবুল্লাহ নামে স্থানিয় এক ব্যাক্তি টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) করা অভিযোগে জানা যায়, বনবিভাগের সাগরদীঘি বিটের কামালপুর মৌজার জমি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে দখল করে লেবুর বাগান করেছেন বর্তমান সাগরদীঘি ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার । দখল করা জমিতে ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়ন করে বনবিভাগ। সেই গাছ চেয়ারম্যান মোটা অংকের টাকায় বিক্রি করে সরকারি অর্থ ও পরিবেশের ক্ষতি সাধন করেছেন। সরেজমিনে তদন্ত করলে ভূমি দখলের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় ভোক্তভোগিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বনের জমিতে একটি ঘর ওঠাতে গেলে বনকর্তাদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। অন্যথায় আমাদের নামে মামলা দেন তারা। কিন্তু চেয়ারম্যান এতো জমি দখল করে আছে তাকে কেউ কিছুই বলে না। ওই জমির পাশের বাড়ির মহি উদ্দিন সিকদার (৭০) জানান, কামালপুর মৌজার ৫০৭ নং দাগের ৩.৩৬ একর জমি মনিবের খাস, মানে বন বিভাগে সম্পত্তি। একই গ্রামের দুলাল সিকদার বলেন, বনবিভাগের লোকদের হাত করে সরকারি সামাজিক বনায়ন ধ্বংস করে চেয়ারম্যান লেবুর বাগান করেছেন। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার ওয়াজেদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যানের দখল করা ওই জমিতে প্লট আকারে সরকারি বাগান ছিল। অংশিদারের ভিত্তিতে প্লট গুলো ছিল অন্য লোকদের নামে। সেই গাছ কেটে তিনি লেবুর বাগান করেছেন।
জানতে চাইলে বনবিভাগের জায়গা অবৈধভাবে দখলের কথা স্বাীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, শুধু আমি নই, এ রকম অনেকেই বনের জমি দখল করেছে। আমি মাত্র দেড় একরের উপরে একটি জায়গায় লেবু ও বেগুনের বাগান করেছি। বনবিভাগ চাইলে জমি ফেরত দেব।
এ বিষয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, সাগরদীঘি বিটের অধিনে কামালপুর মৌজার ৫০৭ নং দাগের ওই জমি ৮০ হেক্টর ভূমির আওতায়। সেখানে ২০০৭ -০৮ সালে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছিল। তারপর আর বাগান করা হয়নি। সার্ভেয়ারকে বলা হয়েছে জমি মাপার জন্য। ওই জমি যদি বনের থাকে তবে তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করা হবে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ জহিরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.