ভূঞাপুরে দ্বিতীয় দফা বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দী

0 5

ভূঞাপুর প্রতিনিধি:

 

উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে যমুনার পানি দ্বিতীয় দফায় অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাই ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা । বুধবার দুপুর পর্যন্ত যোকার চর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৬৯সেন্টি মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে পিংনা- যোকার চর বাাঁধের তাড়াই এলাকা।সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাই ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে নতুন করে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে অনেক বাড়ির বসত ঘর। মানুষ বাঁশের উচু মাচা তৈরী করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।কেউবা গোবাদি পশু নিয়ে উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। দেখা দিয়েছে তীব্র গো খাদ্য সংকট।এ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিংনা- যোকার চর বাাঁধের তাড়াই এলাকায় কমপক্ষে ৫ টি স্থানে লিকেচ দেখা দিয়েছে। এ সব লিকেজ মেরামতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বাঁধ ভেঙ্গে গেলে নতুন করে ১০-১৫ টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হবে। হুমকীর মুখে পড়বে তারাকান্দি-ভূঞাপুর সড়ক। এ বন্যায় তালিয়ে গেছে উপজেলার হাজার হাজার একর ফসলি জমি।রেহাই চন্দুনী গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতি দিন বৃষ্টি হইতাছে। নদীর পানি বাড়তাছে, আর ভাঙন তো চলতাছেই। সব মিলায়ে আমগড়র কষ্টের সীমা নাই। যা আবাদ করছিলাম সব বানে তলায়া গেছে। বাড়ী ঘর, গরু ছাগল নিয়া বিপদে আছি।গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রায় ৪৭টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলো অতিকষ্টে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ পর্যন্ত ৮ টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি যা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ ত্রাণ দুর্যোগের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনার পানি ভ‚ঞাপুর অংশে বিপদসীমার ৬৯ সেন্টি মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।ভ‚ঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নাসরীন পারভীন জানান, উপজেলার বন্যা কবলিত পরিবারের গুলোর মধ্যে বরাদ্দকৃত২০ মেট্রিক টন চাল ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আবারো ৬০ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবারের জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ,শিশু খাদ্যের জন্য ৩০হাজার এবং গো খাদ্যের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। যা অতিদ্রæত বিতরণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.