টাঙ্গাইলে বেড়েই চলছে যমুনা নদীর পানি কাঁদছে নদী পারের অসহায় মানুষ

0 11

ভূঞাপুর প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলে প্রায় সব কয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। গতকাল বুধবার যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, নাগরপুর এবং কালিহাতী উপজেলার কমপক্ষে ২০টি ইউনিয়নের লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অব্যাহত রয়েছে নদী ভাঙন। এছাড়াও ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে। জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় ৭৫ বর্গ কিলোমিটার প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় যমুনার নদীর তীরবর্তী আড়াই কিলোমিটার রাস্তার বাঁধ ভেঙে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, জেলায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর ফসলী জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ধান, আমন, আউশ, পাট ও সবজি রয়েছে। জানা গেছে, ভূঞাপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি দিন দিন বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি উঠে পড়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার পরিবার। এছাড়া বন্যার আগে যমুনা নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শতাধিক পরিবার। উপজেলার পুরো গাবসারা ইউনিয়ন, গোবিন্দাসী, অজুর্না, নিকরাইল ইউনিয়নের আংশিক এলাকাগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পানিবন্দি হয়েছে মানুষজন। ঘরে পানি উঠায় অনেকের রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পায়খানা ও টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানি, গো-খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গোবিন্দাসী হতে ভালকুটিয়া পর্যন্ত সড়ক ভেঙে ও তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় রাস্তাও ভেঙে গেছে। কষ্টাপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়েছে। বাকিটুকুতে নিজ উদ্যোগে প্লাস্টিকের বস্তায় মাটি ভরে বস্তা ফেলানো হয়েছিল। কিন্তু বন্যার কারণে ফেলানো বস্তা নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। বন্যার কারণে বাজার সদাই করতে পারছি না। বন্যা কবলিতরা জানান, বছরে দুইবার যমুনা নদীর পানি ঘর-বাড়িতে উঠে তলিয়ে যায়। এতে কষ্ট বেড়ে যায় বহুগুণে। সাহায্য-সহযোগিতা তো দুরের কথা কেউ খোঁজও নেয় না। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই, ধলেশ্বরীর, ফটিকজানি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে যমুনা ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙন রোধে আমরা কাজ করছি। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুদ রয়েছে। চাহিদার ভিত্তিতে তা বিতরণ করা হবে। এছাড়াও ভাঙন কবলিত এলাকায় প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

Leave A Reply

Your email address will not be published.