টাঙ্গাইলের চৈতন্য রাজবংশীর নতুন নির্মাণ ‘মাটিশ্বর’

0 19

নিউজ স্রোতঃ

পরিশ্রম, কঠোর অধ্যবসায় এবং সঠিক লক্ষ্য থাকলে যে কোন মানুষই তার কাঙ্খিত সাফল্য পাবে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ টাঙ্গাইলের ছেলে চৈতন্য রাজবংশী।চৈতন্য রাজবংশীর জন্ম টাঙ্গাইল জেলার এলাসিন গ্রামে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর গণিত বিভাগ হতে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। চৈতন্য রাজবংশীর বাঁশির সুরে মোহিত হয়েছেন অনেকেই । ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে থিয়েটার এর সাথেও যুক্ত ছিলেন। মঞ্চে অভিনয় এর পাশাপাশি আবহ সঙ্গীত এর কাজ করেছেন তিনি। “অন্তরালের গান” নামক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এর মাধ্যমে শুরু করেন চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ। মানুষের বাস্তব জীবন নিয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। “প্রত্যর্পণ” চলচ্চিত্রে উঠে এসেছিল জঙ্গিবাদের প্রভাবে ভেঙ্গে যাওয়া সংসারের এক সাহসী নারীর জেগে উঠার গল্প। প্রত্যর্পণ চলচ্চিত্র দেখার জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের ঢল পড়েছিল। টিকেট বিক্রি করে অর্জিত টাকা ক্যান্সার আক্রান্ত এক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়েছিল। এরও আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটে যাওয়া নানা অসঙ্গতি নিয়ে নির্মাণ হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রারম্ভ”। এই প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত সকল অর্থ নিজে না নিয়ে মানুষের কথা ভেবে সিলেট সুনামগঞ্জের বন্যা কবলিত মানুষকে দান করেন। মাদকের ভয়াবহতার ওপর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “না” ঢাকা শিল্পকলা একাডেমি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শন করা হয়। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরভূঁই ও বলি দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সম্মান বয়ে আনে। তিনি ২০১৮ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যতম সম্মাননা “সাস্টসিসি এওয়ার্ড ২০১৮” লাভ করেন। এবার শুরু হলো তার নতুন সিনেমা “মাটিশ্বর” । তরুন চলচ্চিত্র নির্মাতা চৈতন্য রাজবংশী বলেন, “সিনেমা বানাবো কিন্তু সাথে নেই ক্যামেরা, ট্রাইপড কিংবা গিম্বল। তাই বলে কি কাজ থেমে থাকবে? হাতে যে স্মার্টফোন টা আছে এটা দিয়েই এবার শুরু হলো সিনেমা নির্মানের কাজ। মাটির সাথে মানুষের এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কটা তুলে আনতেই কুমার পাড়ায় সময় কাটাতে শুরু করলাম। ছোট বেলা থেকেই কুমার দের দেখে আসছি। মাটির সাথে তাদের অস্তিত্বের জীবনচিত্র। হাড় ভাঙ্গা খাটুনি করতে হয় তাদের। রচিত হয় তাদের জীবন প্রবাহ। মাটিই যেন হয়ে উঠে ঈশ্বর। এই মাটির স্বরূপ সন্ধ্যান করতেই আমার এই কাজ।” বর্তমানে কাজটির চিত্রগ্রহণ প্রায় শেষের দিকে। সিনেমার প্রধান সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন রাম পাল। সহযোগিতায় আছেন পার্থ পাল, দিপু পাল, সাব্বির আহমেদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.