টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ছয়দিন পর কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার/ দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে মামলার তদন্তকারী অফিসার আমির হামজাকে অপসারনের দাবি এলাকাবাসীর

0 306

নিউজ স্রোতঃ
টাঙ্গাইলে নিখোঁজের ছয়দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন আশিক (১৮)। তিনি শহরের কাগমারা এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশে কর্মরত রাশেদুল ইসলামের ছেলে এবং মেজর জেনারেল   মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
বিকেলে ওই ছাত্রের বাড়ির কাছেই লৌহজং নদীতে তার লাশ ভেসে উঠে। এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে। লাশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
লাশ উদ্ধারের পর এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা ওই ছেলের প্রেমিকার বাড়িতে হামলা চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল রাতে একই এলাকায় তার প্রেমিকার বাসায় মুঠো ফোন আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে আশিকের মা টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন।
আশিকের বাবা রাশেদুল ইসলাম পুলিশের ঢাকা রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে থেকে প্রতিবেশি এক মেয়ের সাথে তার ছেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে ওই মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য তাকে একটি মোবাইল ফোন সেট উপহার দেয়। মেয়ের বড় ভাই বিষয়টি জানার পর আশিককে মোবাইল ফোন ফেরত নিতে তাদের বাসায় ডাকেন। আশিক গত ৩০ এপ্রিল রাত আটটার দিকে ওই মেয়ের বাসায় মোবাইল ফোন সেট আনতে যায়। তারপর থেকে আশিক নিখোঁজ ছিলো।
ওই এলাকার বাসিন্দা পারভীন বেগম জানান, ওই রাতে ওই মেয়ের বাসার দিকে আশিককে যেতে দেখেছেন। তারপরে কি হয়েছে সেটি আর তিনি বলতে পারেননি। আশিকের বড় বোন লিমা আক্তার জানান, তার ভাই আশিক ওই মেয়ের বাসায় মোবাইল ফোন আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। মেয়ের পরিবারের সদস্যরা তার ভাইকে গুম করেছেন বলে তিনি জানান।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, লাশ উদ্ধারের পর ওই মেয়েটিকে এবং তার বাবা-মা,নানা, ও নানী কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থাকায় নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত আশিকের পরিবারের অভিযোগ টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় নিখোজ হওয়ার পরে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলার তদন্ত্রের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই আমির হামজাকে। অভিযোগ উঠেছে এসআই আমির হামজার গাফিলতির কারনে নিখোজ আশিককে উদ্বার করতে পারেনি। দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারনে এসআই আমির হামজার অপসারন ও আশিকের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানা ঘেরাও করে কাগমারাবাসী। পরে ওসি মীর মোশারফ হোসেন তদন্ত্র সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ^াস দিলে কাগমারাবাসী থানা ত্যাগ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.