গোড়াই-সখিপুর সড়কে যানবাহনে স্প্রে করার নামে চাঁদাবাজি দূর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃুত্যু

0 57

মির্জাপুর প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে সড়কে যানবাহন থামিয়ে তাতে জীবানুনাশক স্প্রে করে চাঁদা আদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে আবদুল মান্নান (৪৫) নামে আহত ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর দীঘিবাড়ি পাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। মান্নান পেশায় চা বিক্রেতা ছিলেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে গোড়াই-সখিপুর সড়কের উপজেলার তক্তারচালা চৌরাস্তা মোড়ে বাঁশ দিয়ে আটকিয়ে তক্তারচালা বাজারের আহম্মদ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মজিবর ও বিমলের নেতৃত্বে বেশ কয়েক যানবাহন থামিয়ে তাতে জীবানুনাশক স্প্রে করে চাঁদা আদায় করছিল। এ সময় সখিপুর দিক থেকে ছেড়ে আসা মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তারা জীবানুনাশক স্প্রে করে চাঁদা দাবি করেন। কিন্ত চাঁদা না দিয়ে ওই মোটরসাইকেল আরোহী ছেড়ে যেতে চাইলে রুহুল আমিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পেছন থেকে মোটরসাইকেল আরোহীকে লক্ষ করে ঢিঁল ছুড়েন। এ সময় লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেল আরোহী নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বাইসাইকেল আরোহী আবদুল মান্নানকে ধাক্কা দিলে দুজনে পড়ে গিয়ে আহত হন। আহত দু’জকে উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে বাইসাইকেল আরোহী আবদুল মান্নানের অবস্থার অবনতি হলে কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল মান্নানের অবস্থায় অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেয়ার পথে সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে সড়কে যানবাহনে থামিয়ে জীবানুনাশক স্প্রে করে চাঁদা আদায়ের ওই স্থানে সখিপুর থানা পুলিশের উপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকসহ পুলিশ সদস্যরা কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর আহত পুলিশই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় বলে জানা গেছে। তবে পাশেই উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করলেও তিনি উপস্থিত থাকার সময় কোন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলে এসআই ওমর ফারুক জানিয়েছেন।
মির্জাপুরের বংশাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ওই গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে তারা সড়কে বাঁশ ফেলে যানবাহনে স্প্রে করে টাকা উত্তোলন করছিল। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল লাঠি দিয়ে রুহুল আমিন ঢিল না ছুড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। একই দাবি জানান ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আহম্মদও।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়না তদন্তে দাফনের জন্য দেয়া হয়েছে। এখন যদি অভিযোগ করেন তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.