ঘাটাইলে আদিবাসীদের কেউ খোজ রাখেনা

0 77

ঘাটাইল প্রতিনিধিঃ-

টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ী জনপদ সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ফকিরচালা দোপাপাড়া ২০০বছর যাবৎ বসবাসকারী গ্রামের আদিবাসীরা মরন ঘাতী করোনা ভাইরাসের কারনে ২৮টি পরিবার গৃহবন্ধী হয়ে অতিকষ্টে জীবন করছে।এমনকি তাদের কোন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এলাকায় কোন জনসচেতনতা দেওয়ার মতো কোন লোক নেই। ফলে তারা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং তাদের দ্বারায় ছড়াতে পারে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস।

সরেজমিনে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,সংগ্রামপুর ইউনিয়নে ফকিরচালা দোপাপাড়া গ্রামে ২৮টি আদিবাসী পরিবার ১৪০জন লোক বসবাস করে। তাদের কারো পেশা দিনমুজুর,কারো ভ্যানচালক,কেউবা নরসুন্দর(নাপিত)কেউ ভাঙ্গারী টোকাই ব্যবসার সাথে জড়িত ।মহিলার অনেকেই কারো বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে ।বিশ্বব্যাপি ঘাতক ব্যাািধ করোনার ছোবলে যখন তালমাটাল তারই ছোবেলে বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি যারা খেটে খাওয়া মানুষ তাদের উপরে পরেছে। সরকার গোষিত ২০দিনের লক ডাউনে এই ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠি তাদের প্রতিদিন কাজ করতে না পেরে বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে। তাদেরকে কোন কোজ দেওয়ার মতো লোক নেই ।যারা মানুষের বাড়িতে কাজ করতো তাদের কে এখন আর কেউ কাজে নিচ্ছে না ।যানবাহন দোকান পাট বন্ধ থাকার কারণে যারা ব্যবসার সাথে জড়িত তারাও ব্যবসা করতে পারছেনা । ফলে তাদের দিন আনা দিন খাওয়া জীবন যাপনে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন অতিবাহিত হচ্ছে । এলাকার কৃষ্ণ বর্মণ জানায় মেম্বার দুজন কে দুটো ¯িøপ ধরিয়ে দিয়ে বাকিদের কোন খবর নিচ্ছে না ।
এ ব্যপারে ঐ ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ ফরমান আলী জানায় আমার ওয়ার্ডের কার্ডের চেয়ে মানুষ বেশী যার দরুন দুজন কে দিতে পেরেছি।

এই ক্ষৃদ্র নৃগোষ্ঠি এই মহাদুর্যোগের সময় অনিচ্ছয়তার মধ্যে জীবন যাপন করছে ।ক্ষুধার্ত মানুষ খাবারের আশায় রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে যদি কেউ তাদের সামান্য খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করে।
ঐ এলাকায় বসবাসরত আরতী রানী (৬০) জানায় আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করতাম এই সময়ে আমাকে কেউ কাজে নিচ্ছে না ফলে ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি ।

অপরজন ঐ গ্রামের খগেন্দ্র চন্দ্র বর্মন জানায় আমি ভাঙ্গ্রাী ব্যবসার সাথে জড়িত কিন্তু এই লকডাউনের কারনে আমি ঘর থেকে বের হতে পারছিনা ।ফলে প্রায় না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি ।এমনি ঐ গ্রামে বসবাসকারী নিতাই বর্মণ,যতীন বর্মণ,ছানা বর্মণসহ পুরো নৃগোষ্ঠি এখন খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে ।

এ বিষয়ে সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া জানায় আসলে ঐ ওয়ার্ডে যে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে সে হিসাবে তারা(আদিবাসী)দুটি ¯িøপ পেয়েছে। তবে আদিবাসীদের জন্য আলাদা কোন বরাদ্ধ আমার কাছে নেই ।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার জানায় আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি আদিবাসীদের নামের তালিকা করে এমপি মহোদয় কে দিয়েছি ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.