তারাবাড়িতে খালের মুখে জমি ভরাটে হুমকিতে ২০০ হেক্টর ফসলি জমি

0 72

কালিহাতী প্রতিনিধিঃ

উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের তারাবাড়িতে ২০০ হেক্টর ফসলি জমির পানি প্রবাহের ২টি খালের মুখে জমি ভরাট করায় নগরবাড়ি, মাইস্তা, তারাবাড়ি, তাতিহারা, পিচুরিয়া ও লুহুরিয়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষকের প্রায় ২০০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল অতিবৃষ্টি ও বর্ষাকালে বন্যায় ফসল উৎপাদন হুমকিতে পড়বে বলে জানায় স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তারাবাড়ি গ্রামের মৃত হোসেন আলী ভূঁইয়ার ছেলে অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল কাদের ভূঁইয়া দারুল কোরআন ক্বওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত আবাদি জমি ২টি খালের মুখে নিষিদ্ধ এস্কেভেটর দিয়ে ভরাট করছেন, এতে করে নগরবাড়ি, মাইস্তা, তারাবাড়ি, তাতিহারা, পিচুরিয়া ও লুহুরিয়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষকের প্রায় ২০০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল অতিবৃষ্টি ও বর্ষাকালে বন্যায় ফসল উৎপাদন হুমকিতে পড়বে। এসময় সাংবাদিকদের কে খবর দিলো, কারা আনলো ইত্যাদি প্রশ্ন করে অসহায় কৃষকদের উপর ক্ষোভ ঝাড়তেও দেখা যায়। এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসন জমি ভরাট বিষয়ে অবগত আছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বৈঠকে চকের পানি নেমে যাওয়ার বিষয়ে আব্দুল কাদের ভূঁইয়া খালের চুঙ্গি (সুড়ঙ্গ) বরাবর পাঁকা ড্রেন তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বললেও তা না করেই জমি ভরাট চলমান রাখায় অতিবৃষ্টি ও বর্ষাকালে বন্যায় ফসল উৎপাদন হুমকির উদ্বেগের কথা জানায় স্থানীয় কৃষক আঃ মান্নান, আঃ জলিল সহ অনেকে।

তারাবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, এই ভাবে আমগোরে পেটে লাথি মাইর‌্যা খালের মুখে ক্ষেত ভরাট করলে আমার ১৫ বিঘা জমির আমন ধান বন্যার পানিতে ডুইবা যাবো।

৯০ বছর বয়সী কৃষক আইয়্যুব আলী সরকার বলেন, খালের মুখে জমি ভরাটের কারণে অতি বৃষ্টিতে ইরি ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যায় ৬টি গ্রামের অন্ত্যত ৫শত কৃষকের আমন ধান ডুবে যাবে।

আব্দুল কাদের ভূঁইয়া বলেন, ওয়াকফ্কৃত (ব্যক্তিগত) সম্পত্তি ভরাট করে মাদরাসা নির্মাণ করবো, জোর করে কি পানির যাওয়ার রাস্তা নিবেন? ওয়াকফ্ দলিলের নং কত জানতে চাইলে তা বলতে পারেননি, তবে গত ২৫ মার্চ দলিল হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে আলোচনা সাপেক্ষে মাদরাসার সামন দিয়ে (খাল থেকে ১৫ গজ পশ্চিমে ফসলি জমির উপর দিয়ে) পানি যাবার ব্যবস্থা করে দিবো।

কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, খাল দিয়া যে পরিমাণে পানি যায়, ক্ষেতের উপর দিয়া পরিমাণে অনেক কম পানি যাবো। ধান সেই ডুইবাই থাকবো।

নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার পর জমি ভরাট করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উনি এ বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। ফসল উৎপাদন সুরক্ষিত করার লক্ষে পানি প্রবাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি অবগত নই, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.