টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সাধারণ রোগী কম।। আইসোলেশন শূন্য!

0 79

নিউজ স্রোতঃ

টাঙ্গাইল ২৫০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে অধিকাংশ বিছানা রোগীশূন্য থাকছে। রোগীদের আত্মীয়দের আনাগোনাও হাসপাতালে নেই। করোনার কারণে খোলা ৫৫ আসনের আইসোলেশন ইউনিটেও কেউ ভর্তি হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও অন্য সময় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬৫০ রোগী থাকে। অথচ সব ওয়ার্ড মিলে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে রোগী ১০০-১৫০ রোগী অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই দুর্ঘটনা, মারামারি, পেট ব্যাথা, স্ট্রোক ও প্রসবের রোগী আসছেন।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক এখন সর্বত্র। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কার্যত সবাই লকডাউনে রয়েছে। এজন্য জটিল কোন সমস্য না হলে এখন কেউ হাসপাতাল মুখী হচ্ছেন না। হাসপাতালে ভর্তিতেও রোগীদের আগ্রহ কম। করোনাভাইরাসের প্রভাবে অনেকটা রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় প্রতিটি ৫টি করে আসনের ৫৫টি আসনের ১১টি এবং জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৫৫টি আসনের একটি মোট ১২টি আইসোলেশন সেণ্টার খোলা হয়েছে। এরমধ্যে ধনবাড়ীতে একজন এবং মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপনকৃত আইসোলেশন ইউনিটে দুইজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য ১০টি আইসোলেশন ইউনিটে এখনো পর্যন্ত কোন রোগী ভর্তি হননি।
সূত্রমতে, ইতোমধ্যে সন্দেহজনক ২২ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরমধ্যে রোববার(৫ এপ্রিল) সকাল ১১টা পর্যন্ত ১০ জনের রিপোর্ট এসেছে। প্রাপ্ত রিপোর্টে একটিও কোভিড-১৯ পজেটিভ আসেনি। সুতরাং টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসের রোগী এখনো শনাক্ত হয়নি। এছাড়া মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের টেক্কার বাজার গ্রামের পান বিক্রেতা হবিবুর রহমান হবি(৩৫) করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হলে কোভিড-১৯ পজেটিভ আসেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেনারেল হাসপাতালে রোগীর কোন চাপ নেই। রোগীর স্বজনদের কোন ভীর নেই, ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের আনাগোনা নেই। অথচ অন্য সময় রোগী ও তাদের স্বজন এবং ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভীর ঠেলে হাসপাতালে প্রবেশ করাই মুশকিল হয়ে পড়ে।
জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোন রোগী নেই। কয়েকজন ডাক্তার-নার্স বসে খোসগল্প করছেন। ডা. সুজাউদ্দীন বলেন, যে কোন সময় রোগী আসতে পারে। এজন্য আমরা সব সময়ের জন্য প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে রোগীদের আগ্রহ কম। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে রোগী ভর্তি কম। তাছাড়া স্বাভাবিক সময়ে শতকরা ৩০-৪০ জন রোগী আউডোর থেকে ওষুধ নেওয়ার জন্য আসে। তাদেরও কোন চাপ নেই।
আইসোলেশন ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, নতুন স্থাপন করা ৫৫ আসনের আইসোলেশন ইউনিট খা খা করছে, এখনো কোন রোগী ভর্তি হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাস নিয়ে কেউ এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব বলেন, মানুষের ভেতর এখন ভয় কাজ করছে- সাধারণ জ¦র, ঠান্ডা হলে বাড়িতে বসে চিকৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য হাসপাতালে পাঁচ জন ডাক্তারের ফোন নম্বর টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন রোগী বাড়িতে বসে পরামর্শ চাইলে এসব ডাক্তারা এসএমএস এর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. সদর উদ্দীন বলেন, করোনা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব। হাসপাতাল হচ্ছে রোগীর সেবা দেওয়ার জায়গা। এজন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ঠ একটি বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে। আপাতত ৫৫টি আসন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে কোন রোগী আসেনি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, জেলায় ১১০ আসনের ১২টি আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় কোভিড-১৯(নভেল করোনা ভাইরাস) পজেটিভ কোন রোগী শনাক্ত হয়নি। তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এক হাজার ৬৬২টি পিপিই পাওয়া গেছে। পিপিই সবাইকে দেওয়া হবেনা, শুধুমাত্র যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় নিয়েজিত থাকবেন তাদেরকেই দেওয়া হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অনেকেই হাসপাতালমুখী হচ্ছেন না। ছোটখাট সমস্যায় মোবাইলের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.