নাগরপুরে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন জনগনের দ্বারে দ্বারে ইএনও

0 70

নাগরপুর প্রতিনিধিঃ
মরণ ব্যাধী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে নাগরপুর উপজেলা প্রশাসন। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের এ সময় জনসাধারণকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। লোকজনের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে এবং জনগণকে সচেতন করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম। তিনি নিজে সুরক্ষিত না হয়ে যেভাবে সাধারন মানুষের কাছে ছুটে যান তাতে জনগনের প্রসংশা কুড়িয়েছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া কুলি, দিনমজুর, চাদোকানী থেকে শুরু করে উপজেলায় অবস্থিত বেদে পল্লীতে গিয়ে তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করায় প্রসংশিত হয়েছেন তিনি।
সরকারের নির্দেশনা থাকলেও খেটে খাওয়া কিছু মানুষ নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। কাজের খোঁজে ঘর থেকে বের হওয়া এ সব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম। তারা যেন পেট চালানোর দোহাই দিয়ে রাস্তায় বের হয়ে সরকারের নির্দেশনা ভঙ্গ না করে। এজন্য করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে জণসাধারনকে তিনি সচেতন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের পূর্বে তাদেরকে ঘরে ফিরে যেতে সচেতন করেছেন। এরপরও যারা একেবারে নিতান্ত হয়ে কাজের সন্ধানে বের হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পরিবর্তে এ সব নি¤œ আয়ের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শত শত দরিদ্র পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন তিনি। গ্রামীন জনপদের প্রায় প্রতিটি কর্মহীন পরিবারের মাঝে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান। এর আগেও উপজেলার বিভিন্নস্থানে এসব খেটে খাওয়া মানুষের হাতে খাদ্য তুলে দিয়েছেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিনের ন্যায় খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে শুধু আইনের ভয় না দেখিয়ে তাদের হাতে তুলে দেই চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু খাদ্য সামগ্রী যেন আগামী কয়েকটা দিন তাদের পেটের দায়ে রাস্তায় বের না হতে হয়। যখন সাধারন জনগন সরকারি নির্দেশনা মানেনা সেসময় কঠোর হতে হয়। তারপরও তাদেরকে এই কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝাতে চেষ্টা করি। নাগরপুরকে করোনামুক্ত করতে প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছি শুধু জনগণ একটু সচেতন করতে।
অসহায়, ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া দিনমজুর, হতদরিদ্রদের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর তাই জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক সরকারের এই বরাদ্দ নিষ্ঠার সাথে সকল অসহায় ও ছিন্নমূল, ভাসমান হতদরিদ্রদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়ে ছুটে যাই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.