tangail-bird-house-pic-3-copy

দেলদুয়ারের পাখিরাও পেলো নিরাপদ আবাসন

tangail-bird-house-pic-1-copyসংবাদ স্রোত:

‘পাখি-সব করে রব, রাত্রি পোহাইলো’ ছড়াটি এখন অনেকটাই বইয়ের পাতায় বিদ্যমান। পাখির শব্দে এখন আর কারো ঘুম ভাঙ্গে না। গাছে গাছে পাখির কলরবও শোনা যায় না। গ্রামগঞ্জেও দেখা মেলে না দেশীয় প্রজাতির নানা ধরণের রকমের পাখির। সময়ের পরিবর্তন আর জলবায়ুর বিবর্তনে হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সেই পাখি গুলো। হারানো প্রায় প্রাকৃতিক বৈচিত্র আর সেই পাখিগুলো ফিরিয়ে আনতে দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন যুবক নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। গাছে গাছে মাটির কলসি বেঁধে তৈরি করেছেন পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল। ইতমধ্যেই তাদের নেয়া উদ্যোগে সফলতা দেখা দিয়েছে। গাছে গাছে বাঁধা ওই কলসি গুলোতে বসবাস করতে শুরু করেছে নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি। যুবকদের নেয়া ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগেকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার সাধারন মানুষ। tangail-bird-house-pic-5

স্থানীয় পাখি প্রেমিকরা বলছেন, আগে যে সকল পাখি আমরা দেখতাম তা এখন আর চোখে পড়েনা। তবে এলাকার যুবকরা পাখি সংরক্ষনের জন্য যে আবাসন তৈরি করেছে তা সবার নজর কেড়েছে। তাদের এ উদ্যোগের কারনে অনেক পাখি আবার ফিরে আসছে। আমরা চাই এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। পাশাপাশি সরকার তাদের এমন মহৎ কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিক।
পাখির আবাসন তৈরির উদ্যোক্তা তালহা আহমেদ সাজু বলেন, একসময় গ্রামাঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙতো পাখির কলরবে। এখন গ্রামাঞ্চলে নেই পাখির সেই কলরব। হঠাৎ কেন গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির ওই পাখি গুলো। সেই ভাবনা থেকেই আমরা গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে নিয়েছি পাখির অভয়ারণ্য তৈরীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজেদের অর্থ ব্যয়ে গাছে গাছে বেঁধে দেই মাটির কলসি। প্রথমে তিনশত কলসি গাছে গাছে বেধে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এক হাজার পাচঁশ কলসি ইউনিয়নের বিভিন্ন গাছে লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই চোখে পড়েছে বিলুপ্ত কয়েকটি জাতের পাখি। যেমন দোয়েল, শালিক, চড়–ই, টুনটুনি, জালালী কবুতর, ঘুঘু, টগা ইত্যাদি। এসব পাখির কলকাকলিতে ভরে উঠেছে আমাদের গ্রাম। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে আমাদের ইচ্ছা শক্তি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই আমাদের মতো দেশের প্রতিটি গ্রামের তরুণরা এমন উদ্যোগ গ্রহন করুক। যাতে আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাখি গুলো হারিয়ে না যায়।
অপর দুই উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম ও আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের ইচ্ছা শুধু আটিয়া নয়, পুরো দেলদুয়ার উপজেলা হোক পাখিদের অভয়ারণ্য। আমরা চাই দেলদুয়ার থেকে যে উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছি তা ছড়িয়ে পড়–ক সারাদেশ জুড়ে। পাখি ফিরে পাক নিরাপদ নীড়। এই উদ্যোগে যদি আমরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাই তাহলে পুরো উপজেলাকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানাতে পারবো। যা হবে দেশের অন্যান্য যুবকদের জন্য দৃষ্টান্ত ও অনুকরনীয়। এভাবে যুবকরা যদি পাখিদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে তাহলে একদিন গ্রামবাংলার সেই হারানো বৈচিত্র আবার ফিরে পাবো এমন প্রত্যাশাই আমাদের।
আটিয়ার যুব সমাজের নেয়া এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক। তিনি বলেন, গ্রামবাংলা থেকে পাখি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজ পাখির নীড় তৈরিতে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তরুন সমাজের এ কাজের পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক সহযোগীতা করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবদুল মোতালেব বলেন, আটিয়ার কয়েকজন যুবক পাখি সংরক্ষনের যে উদ্যোগে নিয়েছে এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি তাদের এ উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানাই। আমাদের বিলুপ্ত প্রায় পাখি গুলো সংরক্ষনের জন্য এধরনের উদ্যোগ সবার দৃষ্টি করবে বলে আশা করছি। আমাদের প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর এর পক্ষ থেকে যতদুর সম্ভব সার্বিক সহযোগীতা করবো।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আটিয়া গ্রামের যুবকরা মিলে পাখিদের আবাসস্থল তৈরির জন্য গাছে গাছে হাড়ি বেঁধে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমি শুনেছি। আমি তাদের ব্যতিক্রমী ও মহৎ এ উদ্যোগ কে স্বাগত জানাই। আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় তাদের এই উদ্যোগ অভাবনীয়। উপজেলার অনেকের মাঝেই যুবকদের এই উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অবশ্যই তাদের উদ্যোগ স্বার্থক করতে সহযোগীতা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected by WP Anti Spam