tangail-pregnenci-pic-2-1-copy

দেলদুয়ারে অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চান হতদরিদ্র ফরিদা

tangail-pregnenci-pic-2-1-copyসংবাদ স্রোত :

অনাগত সন্তানের পরিচয় চান হত দরিদ্র ফরিদা বেগম (২৬)। সে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের লাউহাটি গ্রামের ফরহাদ মিয়ার একমাত্র মেয়ে।
ফরিদা বেগম জানান, গত তিন বছর আগে পাশের বাড়ির হারুন অর রশিদ মল্লিকের ছেলে প্রিন্স মল্লিকের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু শুরু থেকেই তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি প্রিন্সের বাবা ও তার চাচা এনায়েত মোল্লা। এ কারণে নানা ভাবে ফরিদার উপর চালানো হতো অত্যাচার। অবশেষে প্রিন্সের চাচার কথায় বাধ্য প্রিন্স ফরিদাকে ডিভোর্স দেন। এরপর থেকে সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধও করে দেয় প্রিন্স। তবে এ অবস্থার কিছুদিন যেতে না যেতেই ফরিদার সরলতার সুযোগে প্রিন্স আবার তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান ও পরিবারের চাপে তাকে ডিভোর্স করতে বাধ্য হয়েছিল বলে দুঃখ প্রকাশ করে। একই সাথে আবার নতুর করে সংসার শুরু করতে চায় বলে জানায় ফরিদা। এরই প্রেক্ষিতে ফরিদা আবার প্রিন্স এর কথা বিশ্বাস করতে শুরু করেন। ওই সময় তাদের সাথে পুনরায় শারিরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়। অনৈতিক চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে প্রিন্স ওই সময় ফরিদার সকল খোঁজ খবর রাখতো এবং ফরিদার পরিবারের লোকজনের সাথে ভালো আচরণ করতো। কিন্তু যখন সে জানতে পারে তার গর্ভে প্রিন্সের চার মাসের অনাগত সন্তান। তখন থেকেই শুরু হয় আবার বিপত্তি।
এ সময় আবেগ জড়িত কন্ঠে ফরিদা বলেন, সে আমার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তান নষ্ট করতে বলে। এমনকি হাসপাতালেও নিয়ে যায়। কিন্তু আমার শরিরে রক্তের স্বল্পতা থাকায় চিকিৎসকরা এম আর (বাচ্চা নষ্ট করার প্রক্রিয়া) করতে অনাগ্রহ দেখায়। প্রিন্স আমাকে বাচ্চা মেরে ফেলার ওষুধও এনে দেয়। কিন্তু আমি তাতে রাজি না হওয়ায় আমার উপর নানা ভাবে চাপ দিতে থাকে। আমি নিরুপায় হয়ে তাকে বিয়ের কথা বলি। কিন্তু সে রাজি না হয়ে বরং আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ প্রাণনাশের হুমকির ভয়ে দেলদুয়ার থানায় এ ব্যাপারে আমি সাধারন ডায়েরি করেছি। এ নিয়ে স্থানিয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালেও আমরা গরিব বলে আমাদের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছেনা। আমি আমার অনাগত সন্তানের পরিচয় চাই। আমি সমাজে প্রিন্সের স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। আমি চাই আমার সন্তান তার বাবার পরিচয়ে পৃথিবীর আলো দেখুক। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে আমাকে সহায়তা করবে বলে আশা করছি। অন্যথায় আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।
এ নিয়ে প্রিন্সের পিতা রশিদ মল্লিক ও চাচা এনায়েত মোল্লা প্রিন্সকে মাদকাসক্ত দাবি করে বলেন, ফরিদার এসব অভিযোগ লোক মুখে শুনতে পেরেছি। তবে প্রিন্সের চাচা এনায়েত মোল্লা ফরিদার এ অভিযোগ গুলো বানোয়াট বলে দাবি করেন।
এ সময় তারা আরো বলেন, প্রিন্স ফরিদার সাথে এমন অসামাজিক কিছু করেছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। প্রিন্স বাড়িতে থাকেনা। সে মাদকাসক্ত। তবে যদি সে দোষ করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে এটাই আমাদের কাম্য।
এ নিয়ে প্রিন্সের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এর আগে আমাকে ফাঁসিয়ে ও চক্রান্ত করে বিয়ে করেছিলো সে। এ নিয়ে আমি গ্রাম্য শালিসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে। আমি ওর কারনে সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা। তার গর্ভে থাকা সন্তান আমার নয়। আমাকে আবারো ক্ষতি করার জন্য ফরিদা ষড়যন্ত্র করছে। আমি এ অবস্থা থেকে পরিত্রান চাই।
এ প্রসঙ্গে লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফিরোজ জানান, ভুক্তভোগী ফরিদার পরিবার আমার কাছে এসেছিলো। আমি তাদের আইনী আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আইন যা করে আমি তার পক্ষে আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected by WP Anti Spam