123-copy

নারী অগ্রযাত্রার দৃষ্টান্ত এখন টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলের র‌্যাবসহ ৮ উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বে ৯ নারী কর্মকর্তা

123-copyআরিফ উর রহমান টগর ঃ

নারী অগ্রযাত্রার দৃষ্টান্ত এখন টাঙ্গাইল। ঢাকা বিভাগের বৃহৎ এ জেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত র‌্যাব এর কোম্পানী কমান্ডারসহ বর্তমানে ১২ উপজেলার ৮টিতে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। শুধু পুরুষ কর্মকর্তারাই দক্ষতা আর যোগ্যতার মাপকাঠিতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এমন ধারণা ভুল প্রমাণিত করে বিশাল এই কর্মযজ্ঞে নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই এমনটাই প্রমান করেছেন জেলার দায়িত্বরত এই ৯ নারী কর্মকর্তা। প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবীতে যথেষ্ট দক্ষতার স্বাক্ষরও রাখছেন তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েই মাঠ পর্যায়ে নানা উদাহরণও সৃষ্টি করছেন দায়িত্বরত এই নারী কর্মকর্তারা। জেলার শান্তি শৃঙ্খলায় অবদান রাখাসহ স্ব স্ব উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আর নিরলসভাবে কাজের মাধ্যমে ব্যাপক প্রসংশনীয় হয়ে উঠেছেন তারা।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডারসহ জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে রয়েছেন ৮জন নারী ইউএনও। এ নারী কর্মকর্তা হলেন, টাঙ্গাইলের র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার বীনা রাণী দাস। তিনি প্রশাসনের ২৭তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান। তিনি প্রশাসনের ২৭তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ। নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা শাহীন। তিনি প্রশাসনের ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার। তিনি প্রশাসনের ২৭তম বিসিএস ক্যাডারে উত্তীর্ণ। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন। তিনি প্রশাসনের ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ। গোপালপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা শারমিন। তিনি প্রশাসনের ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ। সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী সরকার রাখী। তিনি প্রশাসনের ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ। ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকা। তিনি প্রশাসনের ৩০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহান স্বপ্না। তিনি প্রশাসনের ৩০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তর কর্মকর্তাদের দায়িত্বভার ঃ
র‌্যাব কমান্ডার এর প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পুলিশের পাশাপাশি জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে, উপজেলায় অবস্থিত সকল বিভাগের কাজকর্মের সমন্বয় সাধন করা। মাদকমুক্ত, যৌতুক-বাল্যবিয়ে রোধ ও জঙ্গিমুক্ত সামাজিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভার তাদের ওপর ন্যস্ত। এছাড়া একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি উপজেলার সকল দায়িত্ব তদারকি করে থাকেন। পাশাপাশি জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাঝে-মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করনে তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রয়েছে সাধারণ, রাজস্ব, ফৌজদারি ও উন্নয়ন প্রশাসন বিষয়ে দায়িত্ব পালনের ভার।
দায়িত্বরত উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তদারকি করা, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি ও বাস্তবায়ন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে তাদের ভূমিকা রাখতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারের স্থায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদর্শ গ্রাম, আবাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, অসহায় মানুষদের বিভিন্ন আশ্রয়নে সংস্থানকরণ, সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা এবং যৌতুক-বাল্যবিয়ে রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, পুরুষ কর্মকর্তাদের মতই দক্ষভাবে জেলা জুড়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন এই ৯ নারী কর্মকর্তা। দেশ জুড়ে পরিচালিত র‌্যাবের একমাত্র নারী কোম্পানী কমান্ডার বীনা রাণী দাস। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে যোগদান করেন তিনি। এরই মধ্যে একাধিক জঙ্গি আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করাসহ বেশ কয়েকটি অপহরণকারী গ্রেফতারের মাধ্যমে ব্যক্তি দক্ষতার যথেষ্ট প্রমান রেখেছেন তিনি। নারী হয়েও পুরুষের সমতুল্য কর্মকান্ড পরিচালনায় তিনি যেমন র‌্যাব সদর দপ্তরে প্রসংশীত হয়েছেন, তেমনি জেলা জুড়ে হয়েছেন দায়িত্ববান কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। এছাড়াও টাঙ্গাইল সদর, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলার ৮ উপজেলার নারী নির্বাহী কর্মকর্তা সততা আর দক্ষতার মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বাল্য বিবাহরোধে বিশেষ ভূমিকা রেখে সৃষ্টি করেছেন নারী ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত।
এ নিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত জাহান বলেন, টাঙ্গাইলে এখন মাঠ পর্যায়ে ৮জন নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। আমি টাঙ্গাইলে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে বিভিন্ন ধরণের কাজ করেছি। মাঠ পর্যায়ে আমাদের সমস্যা হলেও আমরা সেই সমস্যাগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করি। এতে আমাদের সফলতা আসে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী সরকার রাখী বলেন, ইউএনও হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। কাজ তো কাজই। যে কাজটা পুরুষরা করতে পারেন তা নারীরাও পারেন। প্রশাসনে তৃণমূল পর্যায়ে এখন নারীদের কর্মক্ষেত্র ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। একজন ইউএনও হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে অংশ নিতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা অনেক লজিস্টিক সাপোর্ট পেয়ে থাকি। এতে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার বীনা রাণী দাস বলেন, নারীর এই অগ্রযাত্রাই প্রমান করে সমাজে নারী দৃষ্টিভঙ্গির অভাবনীয় পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবার ও সমাজ এখন নারীকে সম্পদ ভাবতে শুরু করেছে। এরই সাফল্যে নারী হয়ে উঠেছেন অগ্রগামী। এ ক্ষেত্রে শুধু নারীর ক্ষমতায়নই বৃদ্ধি পায়নি, পেয়েছে সামাজিক কর্মকান্ডে অবদান রাখার অবস্থান। এ কারণে দেশ ও সমাজের প্রতিটি কর্মকান্ডে প্রসংশনীয় ভূমিকা রাখছেন নারীরা। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন দেশ গঠণে প্রসংশীয় ভূমিকা রাখছেন বলেও দাবি করেন তিনি। নারী এই অগ্রযাত্রা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ভিশন ২০২১ এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। নারীর প্রতি টাঙ্গাইল জেলাবাসির শ্রদ্ধাবোধও এ জেলায় নারীদের কর্মতৎপরতা পরিচালনায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected by WP Anti Spam