d-abdur-razzaq-pic

টাঙ্গাইলে এমপি প্রার্থিতায় অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব ড.আব্দুর রাজ্জাক

d-abdur-razzaq-picসংবাস ¯্রােত : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইলÑ১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে প্রকাশ পাচ্ছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। তবে এ সকল প্রার্থীর মধ্যে এখনও জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্য মন্ত্রী কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক। প্রথমদিকে এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও এখন আসনটির কর্তৃত্ব ও দখল নিয়েছে আওয়ামীলীগ। এ সাফল্যের পিছনেও রয়েছে সাবেক খাদ্য ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এবং বর্তমান এমপি কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক এর অবদান। ৮ম থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়ে এ আসনে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা আর দখল নিশ্চিতের দাবিদারও তিনি। বিজয়ের এ ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি আসনের সার্বিক উন্নয়নে রাখা তার বলিষ্ট ভূমিকায়, তিনি পরিনত হয়েছেন টাঙ্গাইলের আওয়ামী দলীয় এমপি প্রার্থিতায় অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনের মধুপুর উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ৮শ ৫৩ জন আর ধনবাড়ি উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ৭শ ৬৫ জন। দুই উপজেলা মিলে এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬শ ৮ জন।
সংসদীয় এ আসনের নির্বাচনী তথ্য, ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৩টি আসন পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলেও মধুপুরের এ আসনটি পায় জাসদ। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বাবু মহেন্দ্র লাল বর্মণকে (নৌকা) প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন জাসদের মো.আবদুস সাত্তার (মশাল)।
১৯৭৯’র দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কাজী আসাদুজ্জামানকে (নৌকা) প্রায় ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বিএনপির প্রার্থী ধনবাড়ির নওয়াব সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী (ধানের শীষ)।
১৯৮৬’র তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি না আসায় আওয়ামীলীগের ডা.নিজামুল ইসলাম এমপি নির্বাচিত হন।
১৯৮৮’র নির্বাচনেও বিএনপি না আসায় খন্দকার আনোয়ারুল হক (স্বতন্ত্র) এমপি নির্বাচিত হন।
টানা দুইবার বিএনপি সংসদ নির্বাচনের বাহিরে থাকায় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আশিকা আকবরকে (ধানের শীষ) মাত্র ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আওয়ামীলীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার (নৌকা)। সাবেক রাষ্ট্রপতির নাতি প্রথম এমপি হয়ে আওয়ামীলীগ সরকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন।
১৯৯৬’র ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদার এমপি হন। একই বছর ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার (নৌকা) প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে (ধানের শীষ) পরাজিত করেন।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে আসেন নতুন মুখ। ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মৃত্যুতে বিএনপির মনোনয়ন পান তারেক রহমানের সহযোগী ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তৎকালিন বিএনপি নেতা অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্টু মনোনয়ন না পেয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান কৃষিবিদ ড.আব্দুর রাজ্জাক। ওই নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা) ৯৮,৪১৩ ভোট পেয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। বিএনপির ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (ধানের শীষ) পান ৪০,৯৭২ ভোট অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল গফুর মন্ট পান ৫৩,৫৩৯ ভোট। ড.আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামীলীগ সরকারের প্রথমেই খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এছাড়াও তিনি আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা) প্রায় ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে (ধানের শীষ) পরাজিত করেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড.আব্দুর রাজ্জাক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ধারাবাহিক ভাবে টানা তিন বার এমপি নির্বাচিত হওয়ায়সহ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়ে ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি কর্পোরেশনের দলের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের অভিমত, টাঙ্গাইলের গর্ভ ও অহংকার কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক। বর্তমানে তিনিই এ জেলার একমাত্র প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার যেমন ছিল প্রসংশিত ভূমিকা, ঠিক তেমনি প্রসংশিত রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার মাধ্যমে তিনি ধরে রেখেছেন ঐতিহাসিক এ জেলার রাজনৈতিক অবস্থান। একইভাবে টাঙ্গাইল ১ মধুপুর-ধনবাড়ী আসনে আওয়ামীলীগের জনশ্রুতি বৃদ্ধির মাধ্যমে ও দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়ে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরই ফলশ্রুতিতে তিনি অর্জন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ। এছাড়াও ইতোপূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও সরকারের খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ধনবাড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব বদিউল আলম মঞ্জু বলেন, কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করাসহ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ অর্জন করে এই ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলাকে দেশ জুড়ে সুপরিচিত করেছেন। তিনি শুধু এ উপজেলাবাসিরই নন, সমগ্র টাঙ্গাইলবাসির অহংকার। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি তিনি টানা তিনবার টাঙ্গাইল-১ মধুপুর-ধনবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য হয়ে সাফল্যের অংশিদার করেছেন এ উপজেলাসহ আসনবাসিকে। এরই ধারাবহিকতায় পূর্বে অবহেলিত এ আসনের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার সকল ক্ষেত্রে হয়েছে সর্বাধিক এবং স্মরণিয় উন্নয়ন। এ আসনের সার্বিক উন্নয়ন আর ব্যক্তি জনপ্রিয়তা অর্জনের কারণে দলীয় এমপি মনোনয়নে তার কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
মধুপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি বলেন, মধুপুর উপজেলায় বিতর্কহীন ও দলীয় এমপি প্রার্থিতায় অদ্বিতীয় এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড.আব্দুর রাজ্জাক। এ উপজেলায় কিছু অসমাপ্ত কাজ থাকলেও সার্বিক উন্নয়নে তার ছিল অসাধারণ অবদান। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় তিনি রেখেছেন সর্বোচ্চ নিবেদিত অবদান। উন্নয়ন আর পরিচ্ছন্ন রাজনীতি পরিচালনার মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে এখন এ উপজেলাবাসির সর্বোচ্চ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বও বলে তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Protected by WP Anti Spam